Somoy TV
গাজার ১১ শিশুর ভাগ্যে না ছিল মায়ের কোলে ঘুম, না ছিল বাবার ছায়া। যুদ্ধের বিভীষিকায় জন্ম নেয়া সেই শিশুদের পরিবার ছাড়াই পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল মিশরে। জাতিসংঘের উদ্যোগে অবশেষে সেই ১১টি শিশু গাজায় নিজেদের পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে।যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছিল জন্মের মুহূর্তে মায়ের স্পর্শ, বাবার পরিচয়, নিজের মাটির গন্ধ। দুই বছর পর সেই হারানো বন্ধন ফিরে পেল গাজার ১১ শিশু। ফিরে এলো পরিবারে। গাজার মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যেও এই পুনর্মিলন যেন মানবিক আশার এক বিরল আলো। ২০২৩ সালে ইসরাইলি আগ্রাসনের জেরে আল শিফা হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল ২৯টি অপরিণত শিশুকে। সীমান্ত বন্ধ থাকায় মায়ের কোলে নয়, ইনকিউবেটরে করে তাদের পাঠানো হয় মিশরে। সঙ্গে ছিল শুধু চিকিৎসক দল। জন্মের পর থেকেই পরিবার ছাড়া এই শিশুদের জীবন শুরু হয়েছিল যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবতায়। আরও পড়ুন: গর্ভবতী নারীসহ ১৩ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল ইসরাইল দুই বছর পর, জাতিসংঘের উদ্যোগে অবশেষে ১১টি শিশু গাজায় নিজেদের পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। সেই পুনর্মিলনের মুহূর্ত ছিল কান্না, আবেগ আর বিস্ময়ের মিশেল। কিন্তু এই ফিরে পাওয়ার আনন্দের মাঝেও রয়ে গেছে গভীর ক্ষত। এ শিশুদের বেশিরভাগই জানে না তার মা-বাবা কে, চেনে না নিজের পরিবার। যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে পরিবারের অনেক সদস্যকে। এই শিশুদের গল্প শুধু পুনর্মিলনের নয়, বরং যুদ্ধের নির্মমতার প্রতিচ্ছবি। চিকিৎসকদের ভাষায়, অনেক নবজাতক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে প্রাণ হারিয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনো টিকে থাকার লড়াই করছে। তবুও এই ১১টি শিশুর ফিরে আসা যেন প্রমাণ করে, সব হারিয়েও মানবিক সম্পর্কের শক্তি কখনো নিঃশেষ হয় না।
Go to News Site