Somoy TV
কারো স্থায়ী এবং অস্থায়ী ঠিকানা নেই, কেউ আবার রয়েছেন অন্য পেশায়, তথ্যেও ভুল দিয়েছেন কেউ কেউ। এভাবেই ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি’র ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অনেকে। সম্প্রতি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা ঘুরে ১১জন ডিলারের মধ্যে অন্তত ৫ জনের কাগজপত্র অনিয়ম দেখা গেছে।সম্প্রতি সময় সংবাদের অনুসন্ধানে অনিয়মের এ চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে কাগজপত্র ও বাস্তবতার মিল নেই। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন বৈধ ব্যবসায়ীরা। টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয় বলছে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত শেষেই চূড়ান্ত হয় তালিকা। জেলা প্রশাসন বলছে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে ব্যবস্থা।সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সাহস ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই একটি বন্ধ দোকান নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়েছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম সেলিম। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভুল তথ্যে ট্রেড লাইসেন্সও নিয়েছিলেন তিনি। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে দায় স্বীকার করে পরিষদ জানায় বাতিল করা হয়েছে তার প্রত্যায়ন।একই চিত্র শোভনা ইউনিয়ন পরিষদে। এই ইউনিয়নে ডিলারশিপ পেয়েছেন মাহফুজুর রহমান সাগর নামের এক ব্যক্তি। কাগজপত্রে তিনি শোভনা পশ্চিম পাড়া বাজারে মুদি দোকানের কথা উল্লেখ করেছেন । তবে উল্লেখিত ঠিকানায় একটি বন্ধ ঘর পাওয়া গেছে। এছাড়া তিনি ওই ইউনিয়নের স্থায়ী বা অস্থায়ী বাসিন্দাও নন বলে জানায় পরিষদ।এছাড়া সরাবপুর ইউনিয়নে সুদেব দাস নামের যে ব্যক্তি ডিলারশিপ পেয়েছেন তিনি মূলত আরেক ডিলার গৌতম দাসের ভাই। অভিযোগ রয়েছে একই দোকান দেখিয়ে দুটি ডিলারশীপ নিয়েছেন গৌতম দাস। সংশ্লিষ্টরা তদন্তে আসলে নতুন ব্যানার টাঙিয়ে দেন দোকানে আর চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য নিকটবর্তী বাজারে তিন মাস আগে একটি গোডাউন ভাড়া নিয়েছেন। তিন বছর ধরে দুটির কার্যক্রম একটি দোকানে কীভাবে পরিচালনা করছেন জানতে চাইলে এড়িয়ে যান গৌতম দাস।আরও পড়ুন: খুলনায় আগুনে ৪ বাড়ি পুড়ে ছাই, ভুক্তভোগীর আহাজারিমাগুরঘুনা ইউনিয়ন পরিষদে নজরুল স্টোর নামের একটি মুদি দোকানের বিপরীতে এম এম নজরুল ইসলামের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। তবে তিনি স্থানীয় একটি এমপিও ভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক। নির্ধারিত ঠিকানায় নেই মুদি দোকানও। নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কেউ ডিলার হিসেবে অনুমোদনের যোগ্য হবেন না।অপরদিকে ডুমুরিয়া ইউনিয়নে চূড়ান্ত হওয়া তানছিফ স্টোরের কাগজপত্রে তথ্যে গড়মিল দেখা যায়। অবশ্য তা স্বীকার করে ভূলবশত এমন হয়েছে বলে দাবি ডিলার সাব্বির হাসানের।এ বিষয়ে টিসিবি, খুলনার যুগ্ম পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরেই চূড়ান্ত হয়েছে তালিকা। দোকান নেই এমন কেউ কেউ সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখব। তবে সিন্ডিকেট করে কেউ ভুয়া অভিযোগ দিচ্ছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, ‘অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। এক্ষেত্রে যে বা যারাই জড়িত থাকুক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Go to News Site