Somoy TV
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়িয়াদহ মাঠে অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েক বিঘা জমির পাকা গম পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা সম্ভব হয়নি। মৌসুমের শেষ সময়ে এমন ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।বৃহস্পতিবার দুপুরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গম কাটার পর জমিতে পড়ে থাকা খড় পরিষ্কার করতে গিয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় কৃষক ওসমান আলী তার জমির খড় পোড়াতে আগুন দিলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে পাশের জমিগুলোর পাকা গমেও আগুন ধরে যায়। মাঠে বাতাসের কারণে আগুন মুহূর্তের মধ্যে বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কৃষকরা প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফায়ার সার্ভিসের টিম আসার আগেই গমের জমির বেশিরভাগ অংশ আগুনে পুড়ে যায়। এই ফসল বিক্রির টাকা দিয়ে পরবর্তী মৌসুমের চাষের প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল চাষিরা। কিন্তু হঠাৎ আগুনে সব শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন চাষিরা। আরও পড়ুন: মেহেরপুরে অবৈধভাবে মজুত করা ৫৩৭৫ লিটার ডিজেল জব্দউক্ত এলাকার চাষি হেমায়েত উদ্দিন বলেন, দুই বিঘা জমিতে গম আবাদ করতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে গম কেটে ঘরে তোলার মুহূর্তে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেবার নয়। অপর কৃষক শাহিন আলী বলেন, ‘পরবর্তী আবাদ করতে এই গম বিক্রির টাকার স্বপ্ন বুনেছিলাম আমরা। কিন্তু এমন বিপদ হবে চিন্তাও করিনি। এখন কি করবো বুঝতে পারছি না।’ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তার মাধ্যমে কৃষকের আর্থিক ক্ষতি পূরণ করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।ইতিমধ্যে ঘটনস্থলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি দল পরিদর্শন করেছে। গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন। কৃষকদের খোলা মাঠে আগুন ব্যবহার করে খড় বা ফসল পোড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা করে প্রণোদনা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা।
Go to News Site