Somoy TV
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের( চুয়েট) তিনটি ভিন্ন শাখায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় এর ইনস্টিটিউট অফ এনার্জি টেকনোলজি (আইইটি), প্রকৌশল শাখা এবং ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইআইসিটি) শাখায় এ ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, ঈদের ছুটিতে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকাকালীন সময়ে চুরির এ ঘটনাগুলো ঘটেছে।জানা যায় সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর গবেষণাগার, একাডেমিক ভবন ও জেনারেটর কক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত সামগ্রি চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া যন্ত্রপাতির তালিকা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে সব মিলিয়ে তিনটি শাখা থেকে চুরি হওয়া মালামালের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইন্সটিটিউট অফ এনার্জি টেকনোলজি (আইইটি) থেকে একটি বম ক্যালোরিমিটার, তিনটি ব্যাটারি, দুটি পাইরোনোমিটার, বিভিন্ন বৈদ্যুতিক তার, বায়োডিজেলের স্যাম্পল এবং একটি টুল বক্সসহ নানা যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে যার মোট বাজারমূল্য প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ টাকা। আরও পড়ুন: বৈদ্যুতিক তার চুরির সময় ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের অন্যদিকে, একাডেমিক ভবন ০৩ ও ০৫ এর বিভিন্ন তলার পানির লাইনের পাইপ, ভাল্ব, ফ্লেক্সিবল সংযোগসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে ভবন দুটিতে পানি সরবরাহ ব্যাহত হয় । এতে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা । এছাড়া বিডিরেন কর্তৃক স্থাপিত জেনারেটর রুম থেকেও চুরি হয়েছে বিভিন্ন মালামাল। এর মধ্যে রয়েছে ১১ কেভি আরএম কেবল (৪৮ মিটার), ১২ ভোল্ট ৮০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি (২টি), একটি সম্পূর্ণ এটিএস সেটআপ, জেনারেটর গ্রাউন্ডিং কেবল, ব্যাটারি সংযোগ কেবল, পিট গ্রাউন্ডিং কেবলসহ বিভিন্ন তার ও যন্ত্রাংশ। চুরিকৃত এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। আরও পড়ুন: চবির আলাওল হলে একমাসে তিনবার চুরি এ বিষয়ে আইইটি এর পরিচালক অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন আহমদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এই ধরনের চুরির ঘটনা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস চুরি হয়েছে। আমার মতে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা আরো জোরদার করা দরকার, ভবনগুলোর চারপাশে রাস্তা, পর্যাপ্ত লাইটিং এবং সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা দরকার। নিরাপত্তার কাজে দায়িত্বে পর্যাপ্ত আনসার এবং নিয়মিত টহলহের ব্যবস্থা করা হলে সামনের দিকে এই ধরনের ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা শাখার উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আশুতোষ সাহা বলেন, ঈদের ছুটিতে ক্যাম্পাস ফাঁকা থাকায় নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে ঘটনাগুলো তদন্তে জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। থানায় সাধারণ ডায়েরি করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
Go to News Site