Somoy TV
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে ভিয়েতনামে। হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম। কিন্তু ভাড়া একই থাকায় বিপাকে ডেলিভারি রাইডাররা। কমছে আয়, বাড়ছে কাজের চাপ। জীবিকা টিকিয়ে রাখতে কেউ বাড়াচ্ছেন কর্মঘণ্টা, কেউ ভাবছেন বৈদ্যুতিক বাইকে ফিরে যাওয়ার কথা।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ভিয়েতনামে জ্বালানির দাম বেড়েই চলেছে। দেশটির শীর্ষ জ্বালানি সরবরাহকারী পেট্রোলিমেক্স এর তথ্য অনুযায়ী, পেট্রোলের দাম বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ, আর ডিজেলের দাম বেড়েছে ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত। এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাইড-শেয়ারিং ও ডেলিভারি খাতে কাজ করা হাজারো মানুষের ওপর। ডেলিভারি রাইডারদের অভিযোগ, জ্বালানির দাম বাড়লেও তাদের ভাড়া বা পারিশ্রমিক একই রয়েছে। তাই আগের মতো আয় করতে হলে এখন আরও বেশি সময় কাজ করতে হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, দৈনন্দিন খরচ মেটানোই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ আয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে জ্বালানি খরচে। এক রাইডার জানান, প্রতিটি ডেলিভারিতে পাওয়া যায় ২০০০ ভিয়েতনামি ডং। আগে ৪০-৫০ হাজার ডং দিয়ে ট্যাংক ভরানো যেত, এখন প্রায় দ্বিগুণ লাগে। ফলে খরচ অনেক বেড়ে গেছে, লোকসানও বাড়ছে। আরও পড়ুন: সৌদি থেকে আসছে আরও ১ লাখ টন / হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ক্রুড অয়েল ছাড়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ বিশেষ করে ই-কমার্স ও ফুড ডেলিভারি কর্মীরা সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে। প্রতিটি ডেলিভারিতে নির্দিষ্ট অল্প পারিশ্রমিক পাওয়া গেলেও বাড়তি জ্বালানি খরচে তা প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ছে। ফলে কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক মোটরবাইক ব্যবহারের কথা ভাবছেন, যদিও সেটি বড় বিনিয়োগ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হচ্ছে না। এক ভিয়েতনামি নাগরিক বলেন, বৈদ্যুতিক বাইকে যাওয়ার কথা ভেবেছি, কিন্তু বাইকই সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই বদলানো সহজ নয়। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে হয়তো বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, না হলে জ্বালানির খরচেই সব আয় শেষ হয়ে যাবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে কিছু জ্বালানি কর স্থগিত করেছে এবং প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং বরাদ্দ দিয়েছে মূল্য স্থিতিশীলতা তহবিলে। পাশাপাশি দেশটির প্রধান তেল শোধনাগারকে জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে এই চাপ থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া কঠিন হবে।
Go to News Site