Somoy TV
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অভাবের তাড়নায় পড়ে নবজাতক সন্তানকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন বাবা-মা। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় নবজাতক কন্যা শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। নিজের সন্তানকে হত্যার চেষ্টার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়।বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) উপজেলার বক্তারকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বক্তারকান্দি এলাকার দারুল হক মাদ্রাসার পেছনে মোজাম্মেলের বাড়ির ভাড়াটিয়া আব্দুল হক ও রাহেনা বেগম দম্পতি বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে নবজাতককে নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে যান। সেখানে নির্জন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের আড়ালে গিয়ে শিশুটিকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নদীতে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা সিসিটিভি ক্যামেরায় বিষয়টি দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং বাবা-মাকে আটক করেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। বন্দর থানা ও ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতককে হেফাজতে নেয়। পরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আরও পড়ুন: আড়াইহাজার থানা থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যাচেষ্টা মামলার সেই আসামি গ্রেফতার স্থানীয়রা জানান, শিশুটির বাবা আব্দুল হক একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার সংসারে আগে থেকেই দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। রিকশা চালিয়ে স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। বুধবার (১ মার্চ) রাতে রাহেনা বেগম আরও একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। এতে ওই দম্পতি হতাশ হয়ে পড়েন। অভাবের সংসারে তৃতীয় কন্যা সন্তানকে বোঝা মনে করে তারা এমন কাজ করেন। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফউদ্দিন বলেন, পারিবারিক সমস্যা ও অভাবের কারণে তারা এমন কাজ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। পরে তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সন্তানকে ফেরত নিতে চান। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে লিখিত অঙ্গীকার নেয়া হলে শিশুটিকে বাবা-মায়ের কাছে দেয়া হয়। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ফয়সাল জানান, উদ্ধারের পর নবজাতকের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়। শিশুটি সুস্থ রয়েছে। পরে বাবা-মায়ের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
Go to News Site