Somoy TV
রমজানকে ঘিরে আমদানি ব্যয় বেড়ে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও মার্চে এসে ব্যাংক খাতে বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান ও তারল্য আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সবশেষ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বৈদেশিক মুদ্রা ও সম্পদ নির্ণয়ে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর নেট ওপেন পজিশন (এনওপি) ও ফরেক্স হোল্ডিংয়ের আকার বেড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ব্যাংক খাত তারল্য ও বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে সক্ষম হচ্ছে। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।নেট ওপেন পজিশন হলো ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পদ ও দায়ের পার্থক্য। এই সূচক যত বেশি ইতিবাচক থাকে, ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা তত বেশি নিরাপদ বলে ধরা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল ব্যাংকগুলোর নেট ওপেন পজিশন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে রমজানের পণ্য আমদানির চাপ থাকায় এই অংক নেমে এসেছিল ৬০২ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলারে। একই সঙ্গে বাজারে নগদ বৈদেশিক মুদ্রার তারল্যও উন্নতির দিকে রয়েছে। আরও পড়ুন: রিজার্ভ আরও বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানির চাপ কমে যাওয়ায় নেট ফরেক্স হোল্ডিং বা ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা মোট বৈদেশিক মুদ্রার নিট পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে। যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ২ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, বর্তমান সরকার দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে চাপ কমাতে বিভিন্ন ব্যাংকে সাশ্রয়ী ব্যবস্থা নিয়েছে, যা দ্রুত কার্যকর হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে জ্বালানিসহ অন্যান্য পণ্য আমদানির চাপও কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় চাপ হ্রাস পাবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাময়িক চাপ থাকলেও ব্যাংক খাত এখন বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে সক্ষম হচ্ছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। ড. কবির আরও বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে না। তবুও ব্যয় সাশ্রয় করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমিয়ে জরুরি পণ্যের আমদানিতে গুরুত্ব দিতে হবে। এদিকে রিজার্ভ বাড়লেও ট্রেজারি বিলের বিপরীতে বৃহস্পতিবার একদিনেই ব্যাংক খাত থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার।
Go to News Site