Somoy TV
চলতি সপ্তাহেই ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রশ্ন উঠেছে, চাইলেই কি যুক্তরাষ্ট্র এই জোট ছাড়তে পারবে? নাকি এর পেছনে রয়েছে জটিল আইনি ও রাজনৈতিক বাধা?ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই ন্যাটোর সমালোচনা করে আসছেন। সামরিক জোটটি থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আবারও এই জোটকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ইউরোপীয় মিত্ররা সমানভাবে দায়িত্ব নিচ্ছে না। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ইউরোপের অনীহা ট্রাম্পের অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনায় মিত্রদের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ না থাকায় তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন। তার মতে, এই ধরনের সহযোগিতা বিনা দ্বিধায় আসা উচিত ছিল। আরও পড়ুন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা /সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকি নিয়েও কেন মধ্যস্থতার চেষ্টায় পাকিস্তান? তবে বাস্তবতা হলো ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়া এতটা সহজ নয়। ২০২৩ সালে মার্কিন কংগ্রেস একটি আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের একতরফা সিদ্ধান্তে ন্যাটো ত্যাগের ক্ষমতা সীমিত করেছে। এখন এই জোট ছাড়তে হলে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন অথবা কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। ন্যাটোর মূল ভিত্তি পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদ, যেখানে বলা হয়েছে যে কোনো এক সদস্যের ওপর হামলা মানেই সবার ওপর হামলা। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হামলার পর ইতিহাসে এই ধারা মাত্র একবারই ব্যবহার করা হয়েছিল। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও তুলে এনেছেন ট্রাম্প। ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পশ্চিমা দেশগুলোকে একত্রিত করেছিলেন। তবে ন্যাটো সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে সহায়তা দিয়েই সীমাবদ্ধ থেকেছে। আরও পড়ুন: আল জাজিরা এক্সপ্লেইনার /ইরানের তেল ‘দখল’ করতে চান ট্রাম্প, পারবেন? ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গ তার স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেছেন, ২০১৯ সালেই ট্রাম্প প্রায় জোট ছাড়ার পথে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তা থেমে যায়। বর্তমানে মহাসচিব মার্ক রুটে একইভাবে ট্রাম্পকে জোটে ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর মোট প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বড় অংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ফলে এই জোটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোও এখন রাশিয়ার হুমকির কারণে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। আরও পড়ুন: মতামত /খাবার টেবিল থেকে যুদ্ধ কতটা দূরে? বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক চাপ সব মিলিয়ে বহু বছরের পুরনো এই সামরিক জোট এক জটিল সময় পার করছে। তবুও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবতা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ন্যাটোতে থাকা এখনো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরও পড়ুন: রয়টার্সের বিশ্লেষণ /হরমুজ প্রণালী ছাড়াও যেভাবে টিকে থাকতে পারে চীন
Go to News Site