Collector
হজ মুমিনের স্বপ্নের ইবাদত | Collector
হজ মুমিনের স্বপ্নের ইবাদত
Somoy TV

হজ মুমিনের স্বপ্নের ইবাদত

হজ আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের উপর আরোপিত একটি ফরজ বিধান। হজ্জের মাধ্যমে একজন মুসলমান প্রভুর দরবারে পেশ করে থাকেন প্রেমের নযরানা।এটা আত্মা ও  শরীরের এক অনন্য যাত্রা যার লক্ষ্য শুধুই আল্লাহর সন্তুষ্টি। যেখানে ধনী-গরীব রাজা প্রজা সকলেই সমান। শুভ্র বসনে প্রেমিকের দল হাজির হয় প্রেমাস্পদের দরবারে। হজ নিয়ে রচিত হয়েছে যুগে যুগে হাজারো কবিতা। আল্লাহর আশেকেরা অধীরাগ্রহে অপেক্ষায় থাকে কবে আসবে আমার পালা। যেদিন ছুটে যাবো প্রিয় শহর মক্কা মদিনা। যে পাঁচটি স্তম্ভের উপরে ইসলামের সুবিশাল প্রসাদটি স্থাপিত হজ্ব তার অন্যতম। যেমনটি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, بني الاسلام على خمس شهادهة ان لا اله الا الله وان محمدا  ورسوله وإقام الصلاة وإيتاء وحج البيت وصوم رمضان  অর্থ :ইসলামের ভিত্তি  পাঁচজিনিসের উপরে স্থাপিত ১. এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম   আল্লাহর রাসূল ২. নামাজ প্রতিষ্ঠা করা ৩.যাকাত প্রদান করা ৪.বাইতুল্লার  হজ্ব করা এবং রমজান মাসের রোজা রাখা।(বোখারি ৮) আরও পড়ুন: কওমি মাদ্রাসার ভর্তিযুদ্ধ শুরু: নতুনদের জন্য জরুরি দিকনির্দেশনা হজেরর ফযিলত عن ابي هريرهة رضي الله تعالى عنه قال سئل النبي صلى الله عليه وسلم أي العمل أفضل ؟ قال: ايمان بالله ورسوله قيل ثم ماذا ؟ قال الجهاد في سبيل الله.قيل ثم ماذا ؟قال حج مبرور. হযরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে  জিজ্ঞাসা করা হলো কোন আমল সর্বোত্তম উত্তরে তিনি বললেন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনয়ন করা এরপর জিজ্ঞাসা করা হলো অতঃপর কোনটি তিনি বললেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলো অতঃপর কোনটি তিনি বললেন  কবুল হজ (বোখারি ১৫১৯)  وعن ابي هريره رضي الله عنه قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم قال :من حج لله  فلم يرفث ولم يفسق رجع كيوم ولدته أمه অর্থ যে ব্যক্তি হজ করল এবং  কোন প্রকার অশ্লীল এবং গুনাহের কাজ করলো না সে ব্যক্তি এমন ভাবে প্রত্যবর্তন করে যেমন যেদিন তাকে তার মা জন্ম দিয়েছিল অর্থাত সেইদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। পরে এক হাদীসে এসেছে قال رسول الله صلى الله عليه وسلم :العمرة الى العمر ة  كفارة لما بينهما والحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة  অর্থ এক উমরা অন্য উমরার মধ্যবর্তী সময়ের জন্য কাফফারা স্বরুপ আর কবুল হজ তার প্রতিদান শুধুমাত্র জান্নাত আল্লাহর আদেশ اتموا الحج والعمرة لله   তোমরা আল্লাহর জন্য হজ এবং ওমরা পূর্ণ কর। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ না করলে তার হুমকি ولله على الناس حج البيت من استطاع اليه سبيلا ومن كفر فان الله غني عن العالمين মানুষের উপর তা রয়েছে যে বাইতুল্লাহ পর্যন্ত পৌছাবার সামর্থ্য রাখে তার জন্য হজ করা আবশ্যক আর যে এই নির্দেশ অমান্য করে কুফূরীর আচরণ করবে সে যেন জেনে রাখে আল্লাহ তাআলা বিশ্ববাসি থেকে অমুখাপেক্ষী। قال النبي صلى الله عليه وسلم : من لم يمنعه من الحج حاجة ظاهرة او سلطان جائر او مرض حابس فمات ولم يحج فليمت ان شاء يهوديا او نصرانيا   অর্থ কোন ব্যক্তির জন্য বাহ্যিক প্রয়োজন, অত্যাচারী বাদশা কিংবা মারাত্নক  অসুস্থতা যদি  হজে যাওয়ার  প্রতিবন্ধক না হয় আর সে হজ না করে তাহলে সে যেন ইহুদি ক্রিস্টান হয়ে (এতে আমার কোনো পরোয়া নেই) হজ তিন প্রকার ১. তামাত্তু। মিকাত অতিক্রমের পূর্বে শুধু উমরার নিয়তে ইহরাম বেঁধে মক্কায় পৌঁছবে অতঃপর উমরা সম্পূর্ণ করে হালাল হয়ে যাবে অতঃপর ৮ জিলহজ্ব হজের এহরাম বেঁধে হজ্ব সম্পূর্ণ করবে। ২. ইফরাদ। মিকাত অতিক্রমের পূর্বে শুধু হজের নিয়তে এহরাম বেঁধে মক্কায় পৌঁছবে অতঃপর ওমরা না করে শুধু তাওয়াফে কুদুম করে এহরাম অবস্থায় হজের জন্য অপেক্ষা করবে। ৩.কিরান। মিকাত অতিক্রমের সময় হজ এবং ওমরা উভয়টার নিয়তে ইহরাম বাঁধবে উমরা সম্পূর্ণ করে এই ইহেরামেই হজের জন্য অপেক্ষা করবে। হজের ফরজ তিনটি ১. ইহরাম বাঁধা। ২. উকূফে আরাফা।অর্থাৎ ৯ইযিলহজ্ব জোহরের পর থেকে ১০ ই  যিলহজ্ব এর সুবহে সাদিকে আগ  পর্যন্ত সামান্য সময় হলেও অবস্থান করা। ৩. তাওয়াফে জিয়ারত করা। অর্থাৎ ১০ জিলহজ্ব থেকে ১২ ই জিলহজ সুর্যাস্তপর্যন্ত সময়ের মধ্যেই হজের তাওয়াফ করা। ওয়াজিব সমূহ১. মুজদালিফায় অবস্থান করা। ২. সাফা মারওয়া সায়ি৷ করা। ৩. জামরাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কঙ্কন নিক্ষেপ করা। ৪. কিরান বা তামাত্তু হজ্ব আদায়কারীর জন্য কোরবানি করা ৫. চুল মুণ্ডানো বা ছাটা। ৬. বিদায়ী তাওয়াফ করা।  মোটকথা হজ্ব হলো আল্লাহ তাআলার নিরঙ্কুশ একটি আনুগত্যতা। যার মাধ্যমে বান্দা  এবং রবের মাঝে গড়ে উঠে  নীবিড় সম্পর্ক। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে একবার হলেও হজ্জে বাইতুল্লাহ নসিব করুন!  আমিন ইয়া রব্বাল আলামীন!

Go to News Site