Somoy TV
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের সীমানা প্রাচীর ভেঙে রেললাইনের ওপর দিয়ে অবৈধভাবে রাস্তা ও গাড়ি পার্কিং তৈরির চেষ্টা করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। গত সোমবার দুপুরে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধে অভিযানে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ।তবে, আপাতত বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত রাস্তা তৈরি বন্ধ রয়েছে বলে শুক্রবার রেলের সহকারী প্রকৌশলী নিশ্চিত করেছেন।মোহনগঞ্জ স্টেশন, স্থানীয়, বিএনপি নেতাকর্মী ও রেলের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২০ মার্চ রেলের দায়িত্বপ্রাপ্তরা মোগনগঞ্জ রেলওয়ের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে দুইপাশে দুটি ফেন্সিং (ট্রেনের নিরাপত্তা, যাত্রীদের সুরক্ষা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে রেললাইনের উভয়পাশে নির্মিত বিশেষ বেষ্টনী) ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। মানুষের যাতায়াতসহ বিভিন্ন গাড়ি পার্কিং করা দেখে বিষয়টি স্টেশন কর্তৃপক্ষ উর্ধ্বতনদের জানান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ মার্চ (সোমবার) ময়মনসিংহ থেকে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান, গৌরীপুর ও মোহনগঞ্জের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে রেলের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙা ফেন্সিং বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওসি সিরাজুল ইসলাম, মোহনগঞ্জ থানা ও রেলওয়ে পুলিশের একটি দল। কিন্তু খবর পেয়ে মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েনসহ নেতাকর্মীরা স্টেশনে উপস্থিত হন। পরে সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় অর্ধশত মানুষ জড়ো হন। এসময় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়সহ একটি উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুটি পক্ষের সৃষ্টি হলে উভয়পক্ষই জনগণের সুবিধা নিয়ে কথা বলেন। আরও পড়ুন: বাড়ির সামনের সড়কে দাঁড়িয়েছিল শিশু রায়হান, প্রাণ গেল অটোরিকশা চাপায়বিএনপি নেতার দাবি, এটি প্রচলিত সড়ক ছিল। যা বিগত স্বৈরাচার সরকার অপরিকল্পিতভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষের যানজট মোকাবিলা করে ভোগান্তি থেকে রক্ষার জন্য পথচারীদের পারাপারের ব্যবস্থা করতেই আগের সড়কটি উন্মুক্ত চান তিনি। এদিকে রেলের প্রকৌশলীরা বলছেন, ট্রেনের ইঞ্জিন ঘুরিয়ে ফেরার সময় কেউ যাতে কাটা না পড়েন, তাই এটি আটকানো হয়েছে নিরাপত্তার কথা ভেবেই। তবে উধ্বর্তন কর্তপক্ষ পুনরায় খুলে রাখতে চাইলে তারা করে দেবেন। বিষয়টি উপর মহলের আদেশের অপক্ষোয় রয়েছে। সূত্র জানায়, রেলের অনুমতি ছাড়াই মোহনগঞ্জ স্টেশনের সীমানা প্রাচীরের ফেন্সিং কেটে উভয়পাশে চলাচলের রাস্তা ও অবৈধ পার্কিং তৈরি করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে সোমবার ময়মনসিংহের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এতে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রেলওয়ে কর্মকর্তারা স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে স্টেশন মাস্টারের কার্যালয়ে আলোচনায় বসেন। সেখানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং পৌর বিএনপির আহ্বায়কের উপস্থিতিতে দীর্ঘ আলোচনার পর পরিবেশ শান্ত হয়। বিএনপি নেতারা জানান, তারা আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ঢাকা গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও রেল প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং ততক্ষণ পর্যন্ত রেলওয়েকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।আরও পড়ুন: ডুবতে বসেছে হাওড়ের ফসল, বাঁধ নির্মাণে কোদাল তুলে নিলো কৃষকরাএ ব্যাপারে মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন বলেন, ‘মোহনগঞ্জ ক্রসিং এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সারাদিন মানুষ ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই মানুষের ভোগান্তি কেউ দেখে না। ২০ ফুট সড়ক ছিল। সব বন্ধ করে স্বৈরাচার সরকারের এমপি সাজ্জাদুল হাসান কোটি কোটি টাকা অপরিকিল্পত ব্যয় করেছেন। স্টেশনে ফুট ওভারব্রিজে মাদকের আখড়া বসে। কেউ ওইদিকে পারাপার হয় না। কিন্তু এই প্রাচীরের ভেতরে নিয়ে নেয়া জায়গাটি দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাফেরা নিশ্চিত হতো। এটি প্রচলিত সড়ক, যা অপরিকল্পিতভাবে নষ্ট করে একটি পথ খোলা রেখেছে। যেদিক দিয়ে মোহনগঞ্জেসহ খালিয়াজুরী এবং পাশের সুনামগঞ্জের মানুষও চলাচল করে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে রেলওয়ের প্রকৌশলী গিয়েছিলেন দুপুরের দিকে। আমরা নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করেছি। কিন্তু সেখানে হট্টগালের সৃষ্টি হয়, ভিডিও করায় বাধা দেয়া হয়। তবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা সিদ্ধান্ত দেয় তাই হবে।’ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা আমাদের সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলাম। রেলস্টেশনের সীমানা প্রাচীরের ফেন্সিং ভাঙার খবর পেয়ে গিয়ে বন্ধ করতে চাইলাম। তখন প্রথমে সভাপতি সেলিম সাহেব আসলেন। পরে অন্যরা এসেছেন। আমরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কারণেই রাস্তা বা পার্কিং বন্ধ করতে চেয়েছি। তবে তিনি পরে বুঝেছেন। প্রচলিত সড়ক থেকে থাকলেও খোলা অবস্থায় মানুষ যদি এক্সিডেন্ট করে এর দায় কে নেবে? আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। উনারা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে নিয়ে নিলে আমাদের আপত্তি হবে কেন। আমরা নিয়োজিত দেখভাল করার কাজে। এটা আমাদের উপরের আদেশ না আসা পর্যন্ত দেখতেই হবে।’
Go to News Site