Somoy TV
তীব্র গরম আর উত্তাল সাগরের ঢেউ-দুটোকেই উপেক্ষা করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের নোনাজলে মাতোয়ারা ভ্রমণপিপাসুরা।শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কানায় কানায় পূর্ণ সাগরতীরজুড়ে আনন্দ-উল্লাস। তপ্ত গরমে নোনাজলে গা ভিজিয়ে যেন খুঁজে পাচ্ছেন স্বস্তি। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে লাইফগার্ড কর্মীরা।শুক্রবার বেলা ১১ টা, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সুগন্ধা পয়েন্টে; তীব্র গরমে বালিয়াড়ি যেন আগুনের মতো গরম। তবুও সমুদ্রসৈকতে আসা মানুষদের ভিড় কমেনি। বরং বালুর তাপ থেকে বাঁচতে সৈকতের প্রবেশমুখগুলোতে দেখা যায় ছোটাছুটি। নারী, পুরুষ ও শিশুরা গরম বালু এড়িয়ে দ্রুত ছুটছেন সাগরের নোনাজলে।সাগরতীরজুড়ে শুধু মানুষ আর মানুষ-কানায় কানায় পূর্ণ পুরো এলাকা। গরম থেকে স্বস্তি পেতে সবাই নেমে পড়েছেন সাগরে। ঢেউয়ের সাথে সমুদ্রস্নান, টিউবে ভেসে থাকা, আর জেট স্কিতে চড়ে গভীর সাগরে ঘুরে বেড়ানো-সব মিলিয়ে উপভোগ করছেন ভ্রমণপিপাসুরা। নোনাজলের ছোঁয়ায় যেন মিলছে স্বস্তি আর প্রশান্তি।গাজীপুর থেকে আসা পর্যটক রাশেদুল হাসান বলেন, “শহরের ইট-পাথরের জীবনে মন বসে না বলেই সাগরের টানে এখানে আসা। ‘আমার মন বসে না শহরে, ইট-পাথরের নগরে-তাই তো এলাম সাগরে।’ দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি নিয়েই এসেছিলাম, কিন্তু সমুদ্রের কাছে এসে সব ক্লান্তি মুহূর্তেই দূর হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে এই সাগরের ঢেউয়ের মাঝে নিজেকে ভাসিয়ে রাখি সারাক্ষণ। এই আনন্দের সঙ্গে অন্য কোনো কিছুর তুলনা হয় না। আমরা সত্যিই গর্বিত, আমাদের বাংলাদেশে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার রয়েছে।”আরও পড়ুন: ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসাঢাকার বাড্ডা থেকে আসা পর্যটক হায়দার আলী বলেন, ‘আমরা যারা ঢাকার ইট-পাথরের শহরে থাকি, তীব্র গরমে একটু স্বস্তি পেতেই সমুদ্রের টানে এখানে আসি। সাগরের পানিতে গা ভিজিয়ে শরীরটা ঠান্ডা করার অনুভূতি অসাধারণ। এখানে এসে এই প্রচণ্ড গরমও তেমন কিছু মনে হয় না-সমুদ্রের প্রশান্তির কাছে গরমটা একেবারেই তুচ্ছ মনে হয়।’আরেক পর্যটক ফারাহ খানম বলেন, ‘কক্সবাজারে আসা আসলে শুধু দেখার জন্যই-এর অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি, খুবই ভালো লাগছে। তবে রোদটা বেশ তীব্র, গরমও অনেক বেশি।’প্তাহিক ছুটির দিনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের ঢল নামায় স্বস্তি ফিরেছে সৈকতপাড়ের জীবিকানির্ভর মানুষদের মধ্যে। ফটোগ্রাফার, বিচ বাইক চালক, ঘোড়াওয়ালা ও জেট স্কি চালকদের মুখে হাসি ফুটেছে। একই সঙ্গে বিক্রি বেড়ে খুশি বার্মিজ পণ্যের দোকানিরাও।ফটোগ্রাফার গফুর উদ্দিন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ব্যবসা ভালোই চলছে। ঈদের সময় যেমন ভিড় ছিল, এখনো মোটামুটি সেই অবস্থাই আছে। কিছুটা কমেছে ঠিকই, তবে পর্যটক আছে। মানুষ আনন্দ করতে আসছে, তাই আমাদের ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট।’বিচবাইক চালক কফিল উদ্দিন বলেন, ‘ব্যবসা মোটামুটি ভালোই হচ্ছে। কাস্টমারের উপস্থিতি ভালো আছে, বিশেষ করে শুক্রবারে ভিড় বেশি থাকে। পর্যটক বেশি থাকায় আমাদের বিক্রিও বাড়ছে, তাই আমরা খুশি।’সাগরের ঢেউ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়ও। পর্যটকদের নিরাপদ সমুদ্রস্নান নিশ্চিত করতে লাইফগার্ড সংস্থা নিয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।আরও পড়ুন: সাগরতীরে আনন্দ, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও বর্জ্যসী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সুপারভাইজার মো. ওসমান বলেন, ‘সাগর বর্তমানে বেশ উত্তাল রয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটিতে পর্যটকের আগমন বাড়ায় আমরা লাইফগার্ড সেবাকে আরও জোরদার করেছি। আমাদের নিয়মিত লাইফগার্ড সদস্যদের পাশাপাশি নতুন ভলান্টিয়ারদেরও কাজে যুক্ত করা হয়েছে। সবাই মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করছি, যাতে বাড়তি পর্যটকের চাপ দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।’পর্যটকের চাপ বাড়ায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, ইনানী ও পাতুয়ারটেক সৈকত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
Go to News Site