Somoy TV
চুয়াডাঙ্গার দিগন্তজোড়া মাঠে এখন সাদা তুলার সমারোহ। গাছে গাছে ফুটে থাকা সাদা তুলা আর বাহারি ফুল পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে। এ বছর জেলায় তুলার বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া আর সরকারি প্রণোদনায় তুলা চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জোন থেকে প্রায় ১০৫ কোটি টাকার তুলা বিক্রি হবে।তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জোনে এ মৌসুমে ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে তুলার চাষ হয়েছে। যেখান থেকে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন তুলা উৎপাদিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ তুলা ৩ হাজার ৮৪০ টাকা এবং প্রতি কেজি ৯৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।মাঠ পর্যায়ে গিয়ে দেখা যায়, চাষিরা এখন তুলা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আলমডাঙ্গা এলাকার তুলা চাষি নুর হাকিম জানান, প্রতি বিঘা জমিতে তুলা চাষে খরচ হয় প্রায় ২২ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ থাকে।তিনি বলেন, 'এই ফসলটি অসময়ে ঘরে ওঠে, যা অন্য ফসলের আবাদের খরচ জোগাতে বড় ভূমিকা রাখে।'তবে চাষিদের কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে। চাষি হাসমত আলি বলেন, 'মজুরি বেড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি তুলা উত্তোলনে এখন ১৩ থেকে ১৫ টাকা খরচ হচ্ছে। উন্নত দেশের মতো মেশিন দিয়ে তুলা তোলা গেলে খরচ অনেক কমে আসত।'অন্য এক চাষি হারুনর রশিদ জানান, তুলার জীবনকাল কিছুটা দীর্ঘ। যদি ৪-৫ মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যেত, তবে কৃষকরা আরও বেশি আগ্রহী হতো।১৯৯৪ সালে চুয়াডাঙ্গায় ক্ষুদ্র পরিসরে তুলা চাষ শুরু হলেও বর্তমানে এটি বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। গত দুই অর্থবছর ধরে সরকারিভাবে কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। এবার প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা মূল্যের কৃষি উপকরণ ১১ হাজার ৫০০ জন কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।আরও পড়ুন: দিনাজপুরে তুলা চাষে ফিরছে ভাগ্য, নতুন সম্ভাবনায় আগ্রহ বাড়ছে চাষিদেরবিশেষ করে হোয়াইট গোল্ড-২ ও ডিএম-৪ জাতের হাইব্রিড তুলা চাষ করায় ফলন বেড়েছে এবং রোগবালাইয়ের প্রকোপ অনেক কমেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলা চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগলে এবং উচ্চ ফলনশীল জাতের সম্প্রসারণ ঘটলে তুলা আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব। এছাড়া তুলার বীজ প্রক্রিয়াজাত করে ভোজ্য তেল উৎপাদনের সম্ভাবনাও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।চুয়াডাঙ্গা জোনাল অফিসের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা সেন দেবাশীষ বলেন, 'শুরুর দিকে কৃষকদের তুলা চাষে আগ্রহী করা কঠিন ছিল, কিন্তু এখন তারা লাভ দেখে নিজেরাই এগিয়ে আসছেন। গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা কম হলেও সামগ্রিক উৎপাদন সন্তোষজনক। আমরা কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।'তিনি আরও বলেন, দেশে তুলার আবাদ বাড়াতে পারলে টেক্সটাইল শিল্পের জন্য বিদেশ থেকে তুলা আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
Go to News Site