Collector
জুলাই সনদ: ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্তই কি সংকটের কারণ? | Collector
জুলাই সনদ: ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্তই কি সংকটের কারণ?
Somoy TV

জুলাই সনদ: ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্তই কি সংকটের কারণ?

জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে সংসদের উত্তাপ এখন রাজপথেও ছড়াচ্ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে ওয়াকআউটের পর বিক্ষোভের ডাক দেয় বিরোধী দল। যদিও সরকার বলছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর তারা। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। রাষ্ট্রবিজ্ঞান সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঐকমত্য কমিশনের চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তেই জটিলতা। তবে বিএনপি চাইলেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংকট এড়াতে পারতো বলে মত একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের। টেকসই সংস্কারে আলোচনা অব্যাহত রাখার তাগিদ তাদের।বহু বছর পর মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে সংসদ অধিবেশন। তবে দিন যতো পেরোচ্ছে জটিলতা বাড়ছে সংসদে। সাত কার্যদিবসে দুদিন ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। প্রথমদিন রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়ার প্রতিবাদে এবং ষষ্ঠ দিন সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান নিয়ে কোনো সুরাহা না পাওয়ার অভিযোগে ওয়াকআউট করেন বিরোধীরা।সংকটের শুরু শপথ নেয়ার দিন থেকেই। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ মেনে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। তবে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা সে পথে যাননি। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই আইনই অবৈধ। এমন আদেশ রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার বহির্ভূত। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি হারাচ্ছে কার্যকারিতা। যাতে গণভোট, মানবাধিকার, দুদক ও গুমসহ অন্যান্য অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা।এসব আলোচনার উত্তাপ সংসদ ছাড়িয়ে গড়াচ্ছে রাজপথেও। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভে নামছে ১১ দলীয় জোট।আরও পড়ুন: জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রয়োজনে জনগণ আবারও রাজপথে নামবে: মো. মোবারক হোসাইনএই সংকটে ঐকমত্য কমিশনের ওপর দায় দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তার মতে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর অনেক কিছু চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, দ্রুত নির্বাচনের স্বার্থে যা মানতে বাধ্য হয়েছে দলগুলো।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় অর্জন করতে গিয়ে ঐকমত্য কমিশন মূলত জাতিকে বিভক্ত করেছে। তারা যেনতেনভাবে জুলাইকে আরোপ করার চেষ্টা করেছেন। সবার সঙ্গে আলাপ করে যেখানে আলাপের শেষ সেখানে থেমে গিয়ে, সেগুলো গণভোটে দিলে আজ আমরা এ অবস্থায় পড়তাম না।’তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে কেউ জুলাইকে ভালবাসলে তার উচিৎ হবে সংস্কার কাজটা প্রসেস মতে হতে দেয়া। যাতে টেকসই হয়।’তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, বিএনপি চাইলে এই সংকট এড়াতে পারতো। এই অবস্থা চলতে থাকলে সুযোগ পেতে পারে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি। রাজনৈতিক ঐক্য টিকিয়ে রাখার তাগিদ তার।তবে সংসদে তর্ক বিতর্ক ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দুই বিশ্লেষকই। টেকসই সংস্কারে আলোচনা অব্যাহত রাখার পরামর্শ তাদের।

Go to News Site