Collector
‘আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বিচার বিভাগ’, ‘প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে হোঁচট’ | Collector
‘আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বিচার বিভাগ’, ‘প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে হোঁচট’
Somoy TV

‘আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বিচার বিভাগ’, ‘প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে হোঁচট’

প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে।এক নজরে জেনে নিন দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শনিবার (৪ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদন। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে হোঁচট - শিরোনামটি প্রথম অলোর প্রথম পাতার প্রধান খবরের। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধানক্ষমতা বাড়াতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনে সংশোধন এবং গুমের মতো অপরাধ প্রতিরোধে আইনি সংস্কার এনেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এ জন্য কিছু অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল; কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যাদেশগুলো এখনই সংসদে অনুমোদন করা হচ্ছে না। ফলে ১০ এপ্রিলের পর থেকে এসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিচার বিভাগ, দুদক, মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যত বেশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ পায়, সরকারের একচ্ছত্র ক্ষমতা তত সীমিত হয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। এ লক্ষ্যে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের যে উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের যাত্রার শুরুর দিকেই তা হোঁচট খেল। অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।  অবশ্য ক্ষমতাসীন দল বিএনপি বলছে, তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং ভিন্নমতসহ যেভাবে জুলাই সনদ সই হয়েছিল, সেভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া দুদক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে সংস্কার, গুম প্রতিরোধে করা অধ্যাদেশসহ কিছু বিষয় যাচাই–বাছাই করে আরও শক্তিশালী করে পরবর্তী সময়ে আইন করার সুপারিশ আছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি কবে নাগাদ এবং কতটা ‘শক্তিশালী’ আইন করবে, তা এখন দেখার বিষয়। ওষুধে মশা না মরায় ভোগান্তি বেড়েছে - এটি কালের কণ্ঠের শেষ পাতায় প্রকাশিত খবরের শিরোনাম। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় মশা নিধনে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ চললেও বাস্তবে কমছে না মশার উৎপাত। বরং দিন দিন বাড়ছে। এতে ভোগান্তি বাড়ছে নগরবাসীর।  প্রয়োগ করা মশা নিধনের ওষুধে মশা মরছে না—এমন অভিযোগ এখন নগরবাসীর। এতে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ওষুধ নয়, ভুল পদ্ধতি ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাই এই ব্যর্থতার মূল কারণ। আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বিচার বিভাগ- এই শিরোনাম সমকাল পত্রিকার প্রথম পাতার প্রধান খবরের। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিতের সিদ্ধান্তে আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বিচার বিভাগ। অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা আবার চলে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। বিলুপ্ত হবে গত ১১ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। ফলে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার বিষয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা আপাতত পূরণ হচ্ছে না।  অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এই অধ্যাদেশগুলো আপাতত আইনে পরিণত হচ্ছে না। আইনজীবীরা বলছেন, বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছে তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গেল। ১৬-১৮ বছরের শিশুরা জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে - এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় প্রকাশিত খবরের শিরোনাম। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সের শিশুরাই হত্যা, ধর্ষণসহ নানা গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। অপরাধ সংঘটনের পর গ্রেফতার হয়ে দেশের দুটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অবস্থান করা শিশুদের উপর গবেষণা করে এমন তথ্য পেয়েছে আইন কমিশন। এদিকে কমিশন কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারগুলোতে অংশ নিয়ে অংশীজনরা বলছেন, ১৮ বছর পর্যন্ত সকল ব্যক্তিই শিশু-আইনে নির্ধারিত এই বয়স সীমার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।  সেমিনারে অংশ নেয়া বিচারক, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), আইনজীবী, পুলিশ, প্রবেশন কর্মকর্তা, সমাজকর্মী, সাংবাদিক এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ মোট ১৫৪ জন তাদের মতামত প্রদান করেন। মতামত প্রদানকারীদের মধ্যে শতকরা ৯৪ ভাগ শিশু আইনে নির্ধারিত বয়সসীমা পরিবর্তনের পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলছেন, শিশু আইনে নানা অসঙ্গতি রয়েছে। সরকারের উচিত আইনটি পর্যালোচনা করে এই অসঙ্গতিসমূহ দূর করা। রাজপথের আন্দোলনে সংকট বাড়ার শঙ্কা - এই শিরোনাম যুগান্তর পত্রিকার প্রথম পাতার প্রধান খবরের। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে গোটা বিশ্ব এখন সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জ্বালানিসহ নানা সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর বিপদের বার্তা দিচ্ছে। তবে এই সংকট সৃষ্টির জন্য দায়ী না হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশসহ কোনো দেশই এর প্রভাব এড়াতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে উত্তপ্ত হতে যাচ্ছে দেশের রাজপথ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বৈশ্বিক এই সংকটকালে বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনে নামলে তা সুখকর হবে না। বরং তা সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। তাদের মতে, এই মুহূর্তে জ্বালানিসহ ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অন্যান্য সংকট মোকাবিলাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ কীভাবে এটাকে মোকাবিলা করবে, স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নীতির কী কী পরিবর্তন আনা দরকার-তা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার।  তারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচন হয়েছে। এখন দেশে নির্বাচিত সরকার, সংসদ ও বিরোধী দল আছে। তাদের আচার-আচরণ বা রাজনৈতিক ভূমিকায় সব সময় মনে রাখতে হবে যেন কোনোভাবেই দেশে আর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না হয়। যে কোনো সমস্যার সমাধান করতে হবে ঐক্য ও আলোচনার মাধ্যমে। এটা থেকে বিচ্যুত হলে সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

Go to News Site