Collector
আমিন আমিন ধ্বনিতে শেষ হলো চরমোনাই মাহফিল | Collector
আমিন আমিন ধ্বনিতে শেষ হলো চরমোনাই মাহফিল
Somoy TV

আমিন আমিন ধ্বনিতে শেষ হলো চরমোনাই মাহফিল

লাখো মুসল্লির ‘আমিন আমিন’ ধ্বনি এবং আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বরিশালের চরমোনাই মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ফাল্গুনের মাহফিল। সমাপনী অধিবেশনে দেয়া বয়ানে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাকওয়াভিত্তিক জীবনযাপনের আহ্বান জানান চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় সমাপনী অধিবেশন ও আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে লাখো মুসল্লির এই আধ্যাত্মিক মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটে। এর আগে গত বুধবার (১ এপ্রিল) বাদ জোহর চরমোনাই পীরের উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে এই মাহফিল শুরু হয়েছিল। সমাপনী অধিবেশনে চরমোনাই পীর বলেন, ‘মানুষ আজ আল্লাহকে ভুলে অহরহ নাফরমানি করছে। অথচ একজন মানুষ কবরে গিয়ে মাফ না পাওয়া পর্যন্ত নিজেকে নিকৃষ্ট পশুর মতো মনে করতে হবে। সুতরাং তাকওয়া বা আল্লাহর ভয় অর্জনের মাধ্যমে মহান রবের সন্তুষ্টি নিয়ে কবরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহর ভয় যার অন্তরে নেই, ওই মানুষ এমনকি আলেম, মুফতি ও পীরের কোনো মূল্য নেই। নিজেকে নিজে ছোট মনে করতে হবে। আমিত্ব ভাব ও তাকাব্বুরি পরিত্যাগ করতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ ছাড়তে হবে। ঘোড়ার মুখে যেভাবে লাগাম থাকে, সেভাবে রাগের মুখে লাগাম লাগাতে হবে।’ এ ছাড়া সকাল-সন্ধ্যা জিকিরের মাধ্যমে অন্তর পরিশুদ্ধ করা, গিবতের মতো গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, পরিবারের সবাইকে দ্বীন শিক্ষা দেয়া, পর্দা মেনে চলা এবং সব ধরনের নেশাজাত দ্রব্য থেকে দূরে থাকার প্রতি জোর দেন তিনি। পাশাপাশি নিয়মিত কিতাব পড়া, সাপ্তাহিক হালকায়ে জিকির ও তালিমে অংশ নেয়া এবং সহিহ শুদ্ধভাবে কুরআন তেলাওয়াত করারও নসিহত দেন চরমোনাই পীর। আরও পড়ুন: দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতে মুক্তির জন্য আল্লাহর ভয় জরুরি: মুফতি ফয়জুল করীম আখেরি মোনাজাতে ফিলিস্তিন, ভারত, কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়া, ইরান, লেবাননসহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের অবসান চেয়ে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করেন চরমোনাই পীর। পাশাপাশি গত অগ্রহায়ণ মাহফিল থেকে এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারী চরমোনাইয়ের প্রায় দেড় হাজার অনুসারীর জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। এর আগে সমাপনী অধিবেশনে মাহফিল বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত প্রশাসন, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, ওলামায়ে কেরাম ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান তিনি। এ বছর মাহফিলে মূল ৭টি বয়ানের পাশাপাশি দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখরা গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন। এদিকে, মাহফিলে আসা মুসল্লিদের মধ্যে দুজন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। তারা হলেন নরসিংদীর মাধবদীর কাঠালিয়া এলাকার বাসিন্দা এমদাদুল হাসান (৮৬) এবং টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের মো. তালহা (২২)। জানাজা শেষে মাহফিল হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চরমোনাই অস্থায়ী মাহফিল হাসপাতালে এ বছর দুই সহস্রাধিক মুসল্লিকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া এবারের মাহফিলে ২ জন অমুসলিম চরমোনাই পীর ও শায়েখে চরমোনাইয়ের হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

Go to News Site