Collector
মাকরুহ ওয়াক্তে রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ আদায় করা যাবে? | Collector
মাকরুহ ওয়াক্তে রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ আদায় করা যাবে?
Jagonews24

মাকরুহ ওয়াক্তে রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ আদায় করা যাবে?

প্রশ্ন: মসজিদে নববীর রিয়াজুল জান্নাত অংশে সহজে জায়গা খালি পাওয়া যায় না। কখনও নিষিদ্ধ বা মাকরুহ ওয়াক্তে রিয়াজুল জান্নাতে জায়গা খালি পেলে নামাজ আদায় করা যাবে? উত্তর: নামাজের নিষিদ্ধ ওয়াক্তে রিয়াজুল জান্নাতে অন্যান্য জায়গার মতই সব ধরনের নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ। মাকরুহ ওয়াক্তে অন্যান্য জায়গায় যেমন নফল নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ, রিয়াজুল জান্নাতেও নফল নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ বা মাকরুহ ওয়াক্তে রিয়াজুল জান্নাতে পৌঁছার সুযোগ পেলে জিকির ও ইস্তেগফার পড়বেন, নিষিদ্ধ ওয়াক্তে যে কোনো নামাজ ও মাকরুহ ওয়াক্তে নফল নামাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকবেন। সম্ভব হলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবেন, নিষিদ্ধ বা মাকরুহ ওয়াক্ত শেষ হলে নামাজ পড়বেন। নামাজের নিষিদ্ধ সময় দিনের তিন সময়ে নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ: ১. সূর্যোদয়ের সময়। ২. দ্বিপ্রহর ঠিক দুপুরের সময়। ৩. সূর্যাস্তের সময়। (তবে ওই দিনের আসরের নামাজ না পড়া হলে সূর্যাস্তের সময় পড়লেও আদায় হয়ে যাবে) উকবা ইবনে আমির জুহানী (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাাল্লাম) তিন সময়ে নামাজ আদায় এবং মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ করতে আমাদের নিষেধ করতেন, সূর্য যখন আলোকজ্জ্বল হয়ে উদয় হতে থাকে তখন থেকে পরিষ্কারভাবে উপরে না ওঠা পর্যন্ত, সূর্য ঠিক মধ্যাকাশে থাকে তখন থেকে ঢলে না পড়া পর্যন্ত এবং সূর্য অস্ত যাওয়া শুরু হলে, সম্পূর্ণরূপে অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত। (সহিহ মুসলিম: ৮৩১) নামাজের মাকরুহ সময় দিনের দুই সময়ে কোনো নফল নামাজ পড়া যায় না: ১. ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্য উদিত হয়ে উজ্জ্বল হওয়া পর্যন্ত। ২. আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি; ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত কোনো নামাজ নেই। আসরের নামাজের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো নামাজ নেই। (সহিহ বুখারি: ৫৮৬) রিয়াজুল জান্নাতের পরিচয় ও ফজিলত মসজিদে নববীর একটি অংশকে হাদিসে ‘রওজাতুম মিন রিয়াজিল জান্নাহ’ বা জান্নাতের অন্যতম উদ্যান বলা হয়েছে। এ অংশটি মসজিদে নববীর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ স্থান। নবীজি (সা.) বলেছেন, আমার ঘর (বর্তমানে যে জায়গায় নবীজির (সা.) কবর) ও মিম্বরের মাঝের জায়গা জান্নাতের বাগানগুলোর একটি আর আমার মিম্বর আমার হাউজের ওপর অবস্থিত। (সহিহ বুখারি:১১৯৬, সহিহ মুসলিম: ২৪৬৩) নবীজি (সা.) এই জায়গায় নামাজ পড়তে বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলেন। ইয়াজিদ ইবনে আবু উবাইদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি সালামা ইবনে আকওয়ার সঙ্গে মসজিদে নববীতে যেতাম। তিনি মুসহাফের নিকটবর্তী পিলারের কাছে (রিয়াজুল জান্নাতে) নামাজ পড়তেন। আমি একদিন তাকে বললাম, আপনাকে দেখি এ পিলারের কাছে নামাজ পড়তে বেশি আগ্রহী? তিনি বলেন, আমি নবীজিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম) এ পিলারের কাছে নামাজ পড়তে আগ্রহী দেখেছি। (সহিহ বুখারি: ৫০২; সহিহ মুসলিম: ৫০৯) রিয়াজুল জান্নাত দৈর্ঘ্যে ২২ মিটার, প্রস্থে ১৫ মিটার। বর্তমানে এই জায়গায় সবুজ-সাদা রঙের কার্পেট বিছানো থাকে। মসজিদের অন্য কার্পেটগুলো লাল রঙের। ভিন্ন রঙের কার্পেটের কারণে সহজেই রিয়াজুল জান্নাতের সীমানা বোঝা যায়। ওএফএফ

Go to News Site