Collector
দ্বিতীয় দিনেও ভাঙ্গায় চার গ্রামের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত শতাধিক | Collector
দ্বিতীয় দিনেও ভাঙ্গায় চার গ্রামের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত শতাধিক
Somoy TV

দ্বিতীয় দিনেও ভাঙ্গায় চার গ্রামের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত শতাধিক

ফুটবল খেলার প্রচারে মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে চার গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ সময় বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা পর সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায়ও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুই দিন আগে মনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামের এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করছিল। প্রচারণাকালে তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী খাপুরা গ্রামের জাহিদ ও আজিমের বাগ্‌বিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় মনসুরাবাদ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জিন্নাত মিয়াকে পিটিয়ে আহত করে খাপুরা গ্রামের কয়েকজন যুবক। মুহূর্তের মধ্যে বণিক সমিতির সভাপতিকে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে মনসুরাবাদ গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র, ঢাল ও সড়কি নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেয়।  অন্যদিকে, খাপুরা গ্রামবাসীর সঙ্গে যোগ দেয় পার্শ্ববর্তী সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা ওই সংঘর্ষে একাধিক দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আরও পড়ুন: ভাঙ্গায় টর্চ জ্বালিয়ে সংঘর্ষে জড়াল চার গ্রামবাসী শুক্রবার রাতের ওই ঘটনার জেরে শনিবার সকাল ৭টা থেকে চার গ্রামবাসী পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, সড়কি ও ইটের টুকরো নিয়ে উভয় পক্ষ এলোপাতাড়ি হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু করে। এ সময় মনসুরাবাদ বাজারের দোকানপাটে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। ভেঙে ফেলা হয় দোকানগুলোর বৈদ্যুতিক মিটার, ছিঁড়ে ফেলা হয় ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগের লাইন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে চার পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুপুর ১২টার দিকে থানা-পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে প্রথমে থানা-পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু হাজারো মানুষের সংঘর্ষের কারণে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও বলেন, ‘সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছেন, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এখনো কোনো পক্ষই অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Go to News Site