Collector
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে অব্যবস্থাপনা, ব্যর্থ প্রকল্পে নতুন করে সমালোচনা | Collector
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে অব্যবস্থাপনা, ব্যর্থ প্রকল্পে নতুন করে সমালোচনা
Somoy TV

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে অব্যবস্থাপনা, ব্যর্থ প্রকল্পে নতুন করে সমালোচনা

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নদীবন্দর আধুনিকায়নে ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নেয়া হয় বিশাল প্রকল্প। পন্টুনে নিরাপত্তা ব্যারিকেড, ডাবল বলার্ড এবং করিডোর নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও টেন্ডারও হয়। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো কিছুই নেই। যদিও খরচ করা হয় ৮০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে বাতিল হয় প্রকল্পটি। এ ঘাটে বাস নদীতে পড়ে ২৬ জনের প্রাণহানির পর ফের আলোচনায় এসেছে পুরানো প্রকল্পটির অনিয়ম প্রসঙ্গ।পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট যেখানে প্রতিদিন পারপার হয় হাজার হাজার যাত্রী আর যানবাহন। কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই প্রবেশদ্বারে যাত্রী নিরাপত্তার চিত্র ভয়াবহ। গেল ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ঘাটের দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে এখানকার অব্যবস্থাপনার কথা।সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বেহাল দশার অ্যাপ্রোচ রোড আর জরাজীর্ণ পন্টুন। অথচ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নদীবন্দর আধুনিকায়নে ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নেয়া হয় বিশাল প্রকল্প। পন্টুনে নিরাপত্তা ব্যারিকেড, ডাবল বলার্ড এবং করিডোর নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও টেন্ডারও হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো কিছুই নেই। ৮০ কোটি টাকা খরচের পর নানা জটিলতা দেখিয়ে ২০২৫ সালে বাতিল হয় প্রকল্পটি।অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নিরাপত্তা ব্যারিকেড ও সুরক্ষা সরঞ্জাম স্থাপনে একটি টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ৫০ লাখ টাকা বাজেটের এই কাজে পন্টুনে সেফটি বর্ডার ও র‍্যাম্প পোস্ট বসানোর কথা ছিল। এর বাইরেও বিআইডব্লিউটিএতে ঝুলে আছে ১ হাজার ১৫৮ কোটি টাকার প্রায় ২৬২টি অডিট আপত্তি।আরও পড়ুন:  দৌলতদিয়ার ফেরি থেকে বাস পড়ে যাওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করল মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিএ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন জাগে, আইনের শাসন কী কেবলই নথিবন্দি? বাংলাদেশ ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬ অনুযায়ী যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক। বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্ব ছিল ঘাট ও পন্টুনের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, আর বিআইডব্লিউটিসির কাজ ছিল নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা। কিন্তু দৌলতদিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলীর দাবি অ্যাপ্রোচ রোড ছাড়া সব কিছুই যেন তাদের আওতার বাইরে!বিআইডব্লিউটিএর সিভিল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরিউল আলম জানান, পন্টুনের মালিক বিআইডব্লিউটিসি। সংযোগ সড়কের গর্তগুলো ঠিক করা হয়েছে। তাদের দায়িত্ব পন্টুন থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত অ্যাপ্রোচ রোডের।আইন অনুযায়ী পন্টুন আর অ্যাপ্রোচ রোডের তদারকির দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএর। কিন্তু এখানে কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না। যাত্রী নামিয়ে ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর নিয়ম থাকলেও বাস্তবতা হলো যাত্রী আর গাড়ির হুড়োহুড়িতে পন্টুন হয়ে উঠে নরককুণ্ড।নিরাপত্তার নামে যে ব্যারিকেড থাকার কথা ছিল, তা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ। বাজেট আছে, প্রকল্প আছে, আছে কড়া নির্দেশনা তবুও নেই শুধু জীবনের নিরাপত্তা।

Go to News Site