Somoy TV
পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ অবসানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি স্থগিত করেছে সংস্থায় চলতি মাসে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা দেশ বাহরাইন। জাতিসংঘের কূটনীতিকদের বরাতে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি।প্রতিবেদন মতে, নিরাপত্তা পরিষদের তিন ভেটো ক্ষমতাধর রাষ্ট্র চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্সের আপত্তির পর এই ভোটাভুটি স্থগিত করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংস্থার দুই কূটনীতিক বলেছেন, ভোটাভুটি আগামী সপ্তাহে কোনো একসময় অনুষ্ঠিত হবে। জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর পথটির ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী বলেছে, প্রণালীটি তাদের নৌবাহিনীর ‘দৃঢ় ও কর্তৃত্বপূর্ণ’ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি ইরানের ‘শত্রুদের জন্য’ বন্ধই থাকবে। অবরোধের জেরে গত একমাসে পারস্য উপসাগরে কমপক্ষে ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়েছে। এসব জাহাজের মধ্যে ৩২০টির বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রফতানি হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের বহু দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। আরও পড়ুন: মুখ থুবড়ে পড়ল জোরপূর্বক হরমুজ প্রণালী খোলার উদ্যোগ এমন পরিস্থিতিতে বলপ্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালী খোলার অনুমতি চেয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন। উপসাগরীয় দেশটি চলতি মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। একজন কূটনীতিক ও জাতিসংঘের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে আরব দেশগুলোর আনা এই প্রস্তাবে জাতিসংঘের মাধ্যমে ‘বলপ্রয়োগের অনুমতি’ দেয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়। গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) প্রস্তাবটির ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভেটো ক্ষমতাধর তিন দেশের বিরোধিতার কারণে উদ্যোগটি তার আগেই কার্যত ভেস্তে গেছে। রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা নীতিগতভাবে এমন কোনো প্রস্তাবের বিরোধী যেখানে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়। জাতিসংঘে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ইস্যুতে চীন ও রাশিয়াকে বরাবর ইরানের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। তবে অন্যতম ভেটো ক্ষমতাধর ফ্রান্স এবারই প্রথম কার্যত ইরানের পক্ষে অবস্থান নিলো। আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালী এড়াতে নতুন পাইপলাইন স্থাপনের কথা ভাবছে উপসাগরীয় দেশগুলো যার ইঙ্গিত গত বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বক্তব্য থেকেই পাওয়া গিয়েছিল। এদিন দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কিছু লোক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে বলপূর্বক হরমুজ প্রণালী মুক্ত করার ধারণাকে সমর্থন করছে। তিনি বলেন, এটি এমন একটি বিকল্প যা আমরা কখনোই সমর্থন করিনি, কারণ এটা অবাস্তব। তিনি আরও বলেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী মুক্ত করতে অনন্তকাল লেগে যাবে এবং যারা এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করবে, তারা ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
Go to News Site