Somoy TV
দেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম।শনিবার (৪ এপ্রিল) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, অতীতে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা উপেক্ষা করে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় আমদানি নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় আমদানিকারক দেশ হিসেবে আমরা সংকটে পড়েছি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগের নীতির সংশোধন প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর আগে আমাদের মাত্র ২ দিনের জ্বালানি মজুত ছিল। তখন কোনো আতঙ্ক তৈরি না হলেও এখন ৭ থেকে ১৫ দিনের মজুত থাকার পরেও প্যানিক সৃষ্টি হচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে মানুষ চাহিদার চেয়ে বেশি পেট্রোল—অকটেন কিনছে। অথচ দেশে বড় সংকট হওয়ার কথা ডিজেল নিয়ে। আরও পড়ুন: তেল না পেয়ে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করলেন বাইকাররা অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, অতীতে সরকার জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেয়ার কারণে বর্তমানে জনগণ সরকারি তথ্য বিশ্বাস করতে চাচ্ছে না। পাকিস্তানে বাংলাদেশের দ্বিগুণ মূল্যে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি হলে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করতেই হবে উল্লেখ করে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, বিপিসি বিগত সময়ে প্রতিবছর ৩ হাজার কোটি টাকার নিচে মুনাফা করেনি। সেই হিসেবে গত দশ বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা প্রফিট করেছে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে বিপিসি মুনাফার এই টাকা বিপদের জন্য না রেখে অন্য জায়গায় ব্যয় করেছে। সরকার সেই টাকা অন্য খাতে নিয়ে নিয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিগত সময়ের ভুল নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতিতে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জনে নেতৃত্বের ব্যর্থতা ছিল। সেই ব্যর্থতার মাশুল এখন জনগণ ভোগ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারও জ্বালানি সক্ষমতা স্থিতিশীল রাখতে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। কুইক রেন্টালের নামে ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদানের বিষয়টি পর্যালোচনা করা জরুরি। আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিটি ছিল একপাক্ষিক। এতে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়নি। আরও পড়ুন: তেলের কালোবাজারি রোধে প্রয়োজনে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি প্রয়োগ করব: আইনমন্ত্রী আওয়ামী সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চুক্তিগুলো পুনঃমূল্যায়ন করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, জনগণকে স্বস্তিতে রাখতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিলেও এখনো পর্যন্ত দাম বাড়ায়নি। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও বিশ্ববাজারে মূল্য বাড়ায় জ্বালানির দাম সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিরতা তৈরির মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা হবে অন্যায্য। তবে জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো কুচক্রী মহল যাতে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে নজরদারি বাড়াতে হবে। প্যানিক বায়িং ও তেলের মজুত হতে বিরত থেকে সংকট মোকাবিলায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত। কিরণ আরও বলেন, আসন্ন বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করা। জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে শিল্প কারখানা বন্ধ হবে, বিনিয়োগ বাধাগ্রস্থ হবে, কর্মসংস্থান কমবে, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে, খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, পরিবহন ও পণ্য উৎপাদন খরচ বেড়ে দ্রব্যমূল্য বাড়বে, রিজার্ভের সংকট হবে। সর্বোপরি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে জনজীবনে ভোগান্তি ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা জোরদারের মাধ্যমেই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা সম্ভব’ শীর্ষক ছায়া সংসদে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজিকে পরাজিত করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশর বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক রিজভী নেওয়াজ, সাংবাদিক রিশান নসরুল্লাহ, সাংবাদিক আতিকুর রহমান ও সাংবাদিক জাফর ইকবাল। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেয়া হয়।
Go to News Site