Jagonews24
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান খুব শিগগিরই এই প্রণালীর ওপর থেকে তার নিয়ন্ত্রণ বা চাপ শিথিল করবে—এমন সম্ভাবনা কম। সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন পথকে নিয়ন্ত্রণে রাখা বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তি। এর মাধ্যমে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে, যাতে চলমান যুদ্ধের দ্রুত সমাধান হয়। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ড্রোন হামলা, জাহাজে আক্রমণ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কার্যত এই পথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি ইরানের জন্য একটি শক্তিশালী ‘লিভারেজ’ হিসেবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষক আলী ভায়েজ মন্তব্য করেছেন, এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা একটি পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বেশি প্রভাবশালি হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালি খুলে দিতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ ঝুঁকিপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি সহজেই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। ফলে সামান্য আক্রমণও পুরো নৌ চলাচল ব্যাহত করতে সক্ষম। এদিকে, ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ শেষ হলেও ইরান এই নিয়ন্ত্রণ সহজে ছাড়বে না। কারণ, ভবিষ্যতে পুনর্গঠন তহবিল সংগ্রহের জন্য জাহাজ চলাচলের ওপর ফি আরোপ করাও তাদের পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স এমএসএম
Go to News Site