Collector
নির্ধারিত সময়ের পরও খোলা ওয়ারীর বিপণিবিতান, নির্দেশনা মানতে গড়িমসি | Collector
নির্ধারিত সময়ের পরও খোলা ওয়ারীর বিপণিবিতান, নির্দেশনা মানতে গড়িমসি
Jagonews24

নির্ধারিত সময়ের পরও খোলা ওয়ারীর বিপণিবিতান, নির্দেশনা মানতে গড়িমসি

জ্বালানি-সংকটের প্রেক্ষাপটে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বিপণিবিতান বন্ধ করতে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও পুরান ঢাকার অভিজাত এলাকা ওয়ারীতে তা মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে র‍্যানকিন স্ট্রিটের অধিকাংশ নামিদামি পোশাক ব্র্যান্ডের শোরুমগুলো এক্ষেত্রে গড়িসমি করছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে সরকার নির্দেশ দিয়েছে- সব দোকানপাট ও বিপণিবিতান প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদারকি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। তা কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সরেজমিনে ওয়ারী এলাকায় দেখা যায়, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দোকানগুলোতে ক্রেতাদের অবাধ প্রবেশ চলছিল। অনেক দোকানের সামনে সরকারি নির্দেশনা সংবলিত কোনো নোটিশও চোখে পড়েনি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকেও দোকানগুলোতে উচ্চ আলোকসজ্জা ছিল, যা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুরই ইঙ্গিত দেয়। তবে কয়েকটি দোকানের দরজা নামানো থাকলেও ভেতরে সীমিত পরিসরে আলো জ্বলতে দেখা গেছে। কয়েকটি শোরুমের ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে জানান, তারা সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত আছেন। এলাকাজুড়ে একাধিকবার মাইকিং করে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও তারা স্বীকার করেন। তারা বলেন, মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে কেউ কেউ নির্ধারিত সময় কিছুটা বাড়ানোর পক্ষেও মত দেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্দেশনা বাস্তবায়নে তদারকি জোরদার না থাকায় অনেকেই এখনো পুরোপুরি নিয়ম মানছেন না। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত তদারকি থাকলে এ ধরনের অনিয়ম কমে আসবে। দেশীয় একটি ব্র্যান্ডের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের ৬টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। তবে সময়টা খেয়াল না করায় খোলা ছিল। আমরা অবশ্যই সরকারি নির্দেশনা মেনে চলবো।’ দোকানে পর্যাপ্ত কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সময় অতিক্রম হয়ে যায়- এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি। অন্যদিকে, কয়েকজন ক্রেতা জানান যে অনেকেই অফিস শেষে কেনাকাটার জন্য সন্ধ্যার পরই সময় পান। হঠাৎ করে সময়সীমা কমিয়ে দেওয়ায় তারা কিছুটা অসুবিধায় পড়ছেন। বেসরকারি চাকরিজীবী সোহেল রানা বলেন, ‘৬টার মধ্যে সবকিছু বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের মতো চাকরিজীবীদের কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে যাবে।’ কেনাকাটা করতে আসা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবায়নে রয়েছে শিথিলতা। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নির্ধারিত সময়সীমা মানা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।’ নির্ধারিত সময়ের পরও বিপণিবিতানগুলো খোলা থাকলেও আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। ফলে নির্দেশনা বাস্তবায়নে তদারকির ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এমডিএএ/একিউএফ

Go to News Site