Collector
কার হাতে ফিরবে ইতালির সোনালি দিন? কোচ হওয়ার দৌড়ে আলোচনায় যারা | Collector
কার হাতে ফিরবে ইতালির সোনালি দিন? কোচ হওয়ার দৌড়ে আলোচনায় যারা
Somoy TV

কার হাতে ফিরবে ইতালির সোনালি দিন? কোচ হওয়ার দৌড়ে আলোচনায় যারা

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি, তারাই কি না টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হলেন! এমন ঘটনার পর কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে ফেডারেশনেও বড় পরিবর্তন হওয়াটা অবশ্য অস্বাভাবিক নয়। তবে ঘটেছেও ঠিক তাই, পদত্যাগ করেছেন ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা।ইতালির ফুটবল প্রতিনিধিদলের প্রধানের দায়িত্ব ছেড়েছেন কিংবদন্তি গোলকিপার জিয়ানলুইজি বুফন। তারপর গতকাল (৩ এপ্রিল) ফেডারেশনের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে ইতালির কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জেনারো গাত্তুসো।  গাত্তুসোর সরে দাঁড়ানোটা অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। তাই তিনি দায়িত্ব ছাড়ার আগেই ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে শুরু হয়ে যায়— ইতালির পরবর্তী কোচ কে হতে পারেন, তা নিয়ে নানা আলোচনা ও জল্পনা।  ইতালির জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক ‘লা গাজেত্তা দেয়ো’ সম্ভাব্য কোচের তালিকায় চারজনের নাম তুলে ধরে— রবার্তো মানচিনি, আন্তোনিও কন্তে, মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি এবং পেপ গার্দিওলা। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের তালিকায় গার্দিওলাকে রাখেনি। বরং মানচিনি, কন্তে ও আলেগ্রির পাশাপাশি ফাবিও কানাভারো এবং স্তেফানো পিওলিকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছে।  বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, সমর্থকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন আলেগ্রি। ইতালিয়ান ফুটবলে তার সাফল্যের ঝুলিও বেশ সমৃদ্ধ। গত বছরের মে মাসে দ্বিতীয় দফায় এসি মিলানের কোচ হিসেবে সান সিরোতে ফেরেন তিনি। ফলে ক্লাব ছেড়ে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে তাকে রাজি করানো সহজ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।  আরও পড়ুন: হল্যান্ডের হ্যাটট্রিকে লিভারপুলকে উড়িয়ে এফএ কাপের সেমিতে ম্যানসিটি ইতালির নিম্নস্তরের লিগগুলোতে কোচিং দিয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের পর ২০১০ সালে মিলানের দায়িত্ব পান আলেগ্রি। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম পূর্ণ মৌসুমেই দলকে সিরি-আ শিরোপা জেতান তিনি। পরে জুভেন্টাসের কোচ হিসেবে দুই মেয়াদে আরও পাঁচটি লিগ শিরোপা জিতে নিজের সাফল্যের ধারাকে আরও উজ্জ্বল করেন। এরপর আবার মিলানে ফিরে এসে নতুন করে দায়িত্ব নেন এই অভিজ্ঞ কোচ।  ৬১ বছর বয়সী রবার্তো মানচিনির সামনে কি আবার ইতালির ডাগআউটে ফেরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে— এমন প্রশ্নই এখন ঘুরছে ফুটবল অঙ্গনে। তার অধীনেই ইতালি উয়েফা ইউরোর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল। সেই সময় তার নেতৃত্বে ‘আজ্জুরি’রা টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্ব রেকর্ডও গড়ে।  তবে সাফল্যের সেই ধারার পরই আসে ধাক্কা। ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২৩ সালের আগস্টে দায়িত্ব ছাড়েন মানচিনি। এরপর অল্প সময়ের জন্য সৌদি আরবের কোচ হিসেবে কাজ করেন তিনি।  বর্তমানে কাতারের ক্লাব আল-সাদের দায়িত্বে থাকা এই অভিজ্ঞ কোচের ক্যারিয়ার অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ম্যানচেস্টার সিটিকে তাদের ইতিহাসের প্রথম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি লাৎজিও এবং ইন্টার মিলানের সঙ্গেও দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।  ২০২৭ সাল পর্যন্ত নাপোলির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও আন্তোনিও কন্তেকে ঘিরে আবারও ইতালির জাতীয় দলের কোচ হওয়ার আলোচনা শোনা যাচ্ছে। একসময় আজ্জুরিদের দায়িত্বে থাকা এই অভিজ্ঞ কোচের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েই চলছে জল্পনা।  আরও পড়ুন: বসনিয়া ম্যাচের আগে ইতালির প্লেয়াররা ৪ কোটি টাকা বোনাস চেয়েছিলেন ৫৬ বছর বয়সী কন্তের অধীনে ২০১৬ উয়েফা ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল ইতালি। তবে সেই আসরের পরই ক্লাব ফুটবলে ফেরার আগ্রহে দায়িত্ব ছেড়ে দেন তিনি।  ক্লাব পর্যায়ে কন্তের সাফল্য সত্যিই ঈর্ষণীয়। জুভেন্টাসের হয়ে টানা তিনবার Serie A জয়ের কীর্তি গড়েন তিনি। এরপর চেলসিকে জিতিয়েছেন প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপের শিরোপা। পরবর্তীতে ইন্টার মিলান ও নাপোলির হয়েও লিগ শিরোপা জিতে নিজের সাফল্যের মুকুট আরও সমৃদ্ধ করেছেন এই ইতালিয়ান কোচ।  ইতালিয়ান ফুটবলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে কোনো কিংবদন্তির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার চেয়ে ভালো আর কি-ই বা হতে পারে! সেই জায়গা থেকে আলোচনায় আছেন ফাবিও কানাভারো। আগামী গ্রীষ্মে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উজবেকিস্তানের ডাগআউটে তাকে দেখা যাবে। তবে সেই দায়িত্ব শেষে দেশের টানে ইতালিতে ফেরার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।  ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালি দলের অধিনায়ক হিসেবে কানাভারো রক্ষণভাগে ছিলেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তবে কোচ হিসেবে তার ক্যারিয়ার এখনো ততটা আলো ছড়াতে পারেনি।  অন্যদিকে স্তেফানো পিওলি বর্তমানে কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন, ফলে জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ এলে তা গ্রহণ করার সম্ভাবনাই বেশি। এর আগে লাৎজিও এবং ইন্টার মিলানের ডাগআউটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

Go to News Site