Somoy TV
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে এক সময়ের উজ্জ্বল নাম অস্কার দস সান্তোস এমবোয়াদা জুনিয়র। এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা থামিয়ে দিলো তার ফুটবল ক্যারিয়ার। হৃদরোগজনিত জটিলতায় প্রায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে ৩৪ বছর বয়সেই পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানালেন এই মিডফিল্ডার।শনিবার (৪ এপ্রিল) এক আবেগঘন বার্তায় নিজের অবসরের ঘোষণা দেন সাবেক এ চেলসি তারকা। সর্বশেষ খেলছিলেন নিজ দেশের ক্লাব সাও পাওলোতে, যেখানে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তার চুক্তি ছিল। গত বছরের নভেম্বরে অনুশীলনের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন অস্কার। চিকিৎসকদের ভাষায়, তিনি ভুগেছিলেন ভাসোভেগাল সিনকোপ। এটি এক ধরনের অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অবস্থা, যা হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়ার ফলে ঘটে। ঘটনাটি কতটা ভয়াবহ ছিল, তা নিজেই জানিয়েছেন অস্কার। তিনি বলেন, ‘আমি পরীক্ষার পর হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাই। হৃদস্পন্দন থেমে যাচ্ছিল, রক্তচাপ পড়ে যাচ্ছিল। আমাকে কার্ডিয়াক ম্যাসাজ দিতে হয়েছে। মনে হচ্ছিল, শরীরটা যেন ছুটে যাচ্ছে...।’ আরও পড়ুন: দুই ভাই মাঠে, হাজার মাইল দূরে টিভির সামনে দুজন— বাংলাদেশের জয়ে সুলিভান পরিবারে উল্লাস এই অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। এরপর আর মাঠে ফেরা হয়নি তার। মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ার সেই মুহূর্তের স্মৃতি এখনও তাড়া করে ফেরে অস্কারকে। তিনি বলেন, “অনেকে বলে, মৃত্যুর আগে শরীর ছেড়ে যাওয়ার অনুভূতি হয়, আমি সেটার কিছুটা অনুভব করেছি। খুব অদ্ভুত একটা স্বপ্নের মতো ছিল। হঠাৎ দেখি, আমার ছেলে বলছে—‘বাবা, ফিরে আসো।’” এই আবেগঘন স্মৃতিই যেন তাকে জীবনের নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। ক্যারিয়ারে মোট ৫৫৬ ম্যাচ খেলেছেন অস্কার, যেখানে করেছেন ১৩৬ গোল ও ২০৩ অ্যাসিস্ট। ক্লাব ক্যারিয়ারে সাও পাওলো, স্পোর্ট ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল, চেলসি ও সাংহাই পোর্ট এফসির হয়ে খেলেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ৪৮ ম্যাচে করেছেন ১২ গোল। খেলেছেন ২০১২ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকেও। আরও পড়ুন: নেইমারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন আনচেলত্তি! অবসর ঘোষণায় অস্কারের কণ্ঠে ছিল আক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘আমি আরও খেলতে চেয়েছিলাম, আরও দিতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয়, খেলার মতো সামর্থ্য এখনও ছিল। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আমাকে থামতেই হলো।’ ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও সাও পাওলোর প্রতি নিজের ভালোবাসা অটুট থাকবে বলে জানিয়েছেন অস্কার। এখন তিনি নিজেকে একজন সমর্থক হিসেবেই দেখছেন।
Go to News Site