Collector
ডিজিটাল যুগে অনলাইন নেগেটিভিটি থেকে বাঁচবেন যেভাবে | Collector
ডিজিটাল যুগে অনলাইন নেগেটিভিটি থেকে বাঁচবেন যেভাবে
Jagonews24

ডিজিটাল যুগে অনলাইন নেগেটিভিটি থেকে বাঁচবেন যেভাবে

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ, শারীরিক ক্লান্তি এবং মানসিক উদ্বেগ সব মিলিয়ে অনেকেই প্রতিদিনই চাপের মধ্যে দিন কাটান। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল জীবনের আরেকটি অদৃশ্য সমস্যা অনলাইন নেগেটিভিটি। অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটাতে কাটাতে আমরা নেতিবাচক কনটেন্টের প্রভাবের মধ্যে চলে যাচ্ছি। সোশ্যাল মিডিয়া ও অতিরিক্ত স্ক্রোলিং স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট এখন প্রায় সবার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে মানুষ অবসর সময় কাটানোর জন্য বিভিন্ন কনটেন্ট দেখেন। কিন্তু অনেক সময় এই অভ্যাস অতিরিক্ত হয়ে যায়। ছোট ছোট ভিডিও, রিলস বা নানা ধরনের পোস্ট দেখতে দেখতে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে সময় কাটিয়ে ফেলেন। এতে কাজের মনোযোগ কমে যায় এবং দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়ে। দীর্ঘ স্ক্রিন টাইমের প্রভাব অতিরিক্ত সময় অনলাইনে থাকলে মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে একাকীত্বের প্রবণতা বাড়তে পারে। বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোও দূরে সরে যেতে শুরু করে। পাশাপাশি অনলাইনে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য, ট্রোলিং, বডি শেমিং বা আক্রমণাত্মক আলোচনার মতো বিষয়গুলো মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গবেষণায় কী বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিতভাবে বেশি নেতিবাচক কনটেন্ট দেখেন, তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বেশি থাকে। ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতাকে ‘ডুমস্ক্রোলিং’ বা নামে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ‘ব্রেন রট’ নামের একটি ধারণাও সামনে এসেছে, যেখানে অতিরিক্ত অনলাইন কনটেন্ট মানুষের চিন্তা ও মনোযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মানসিক ও শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি নিয়মিত নেতিবাচক কনটেন্ট দেখার ফলে কিছু সাধারণ সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন- মনোযোগ কমে যাওয়া স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ অনুভব করা ঘুমের সমস্যা আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক, কমেন্ট বা শেয়ারের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে অনেকেই নিজের মূল্যায়ন অন্যের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল করে ফেলেন, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ বাড়ায়। অনলাইন নেগেটিভিটি থেকে দূরে থাকার উপায় স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করুন। প্রতিদিন কত সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটাচ্ছেন তা লক্ষ্য করুন। প্রয়োজন ছাড়া ফোন ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করুন। নেতিবাচক কনটেন্ট এড়িয়ে চলুন। যেসব পোস্ট বা ভিডিও মানসিক অস্বস্তি তৈরি করে, সেগুলো থেকে দূরে থাকুন। প্রয়োজনে এমন অ্যাকাউন্ট আনফলো বা মিউট করতে পারেন। বাস্তব জীবনে সময় দিন। পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরীরচর্চা ও প্রকৃতির কাছে থাকা। নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম বা প্রকৃতির মাঝে কিছু সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। যদি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ বা হতাশা অনুভব করেন, তাহলে মনোবিদ বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন ব্যবহারে প্রযুক্তিই হতে পারে সহায়ক ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, তবে এর সঠিক ব্যবহার না জানলে সেটিই সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই সচেতনভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সীমা নির্ধারণ করা জরুরি। এতে অনলাইন জগতের সুবিধা পাওয়া যাবে, আবার মানসিক সুস্থতাও বজায় থাকবে। আরও পড়ুনসোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল খবরের সত্যতা যাচাই করবে গুগলএখন নোটপ্যাডেও পাবেন ইমেজ সাপোর্ট কেএসকে

Go to News Site