Jagonews24
প্রশ্ন: আমার একজন আত্মীয় বলেন, যে তারিখে জন্ম সে তারিখে বিয়ে করলে কি অমঙ্গল হয়। তার এই কথা কি ঠিক? বিয়ের শুভ দিন কোনটি? উত্তর: জন্মদিনে বা জন্মমাসে বিয়ে করলে অমঙ্গল হয় এটা মূলত হিন্দুদের মধ্যে প্রচলিত একটি কুসংস্কার। হিন্দুদের অনেকে মনে করেন, জন্মের তারিখে এমন কি জন্মের মাসে বিয়ে করলে ওই ব্যক্তির ধন ও পুত্র নাশ হয়। সে মহাদুঃখে দিন কাটায়। এই বিশ্বাস থেকে তারা জন্মদিনে অথবা জন্মমাসে বিয়ে করে না। কোনো মুমিন এ রকম বিশ্বাস রাখতে পারে না। মুমিনের বিশ্বাস তো হলো, কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তা কোনো দিন-তারিখের সাথে যুক্ত নয়। ইসলামে শুভ-অশুভ দিন বলে কিছু নেই। বিয়েরও কোনো শুভ বা অশুভ দিন হয় না। শুভ ও অশুভ মানুষের আমল দ্বারা নির্ধারিত হয়। সব দিনই শুভ; যদি তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী চলা হয়। আর অশুভ-অকল্যাণকর ওই সময়, যাতে আল্লাহর নাফরমানি করা হয়। ভালো ও বৈধ কাজ যে কোনো দিন করলে আল্লাহ তাতে কল্যাণ দান করতে পারেন। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সময়কে মন্দ বলতে বা গালি দিতে নিষেধ করে বলেছেন, তোমরা কেউ যেন সময়কে গালি না দাও, কারণ আল্লাহই সময়। (সহিহ মুসলিম: ৫৮২৭) অর্থাৎ সময়ের স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক আল্লাহ নিজেই, যা হয়, আল্লাহ ইচ্ছায় হয়, সময় অশুভ হয় না বা সময়ের কোনো ক্ষমতাও নেই। অলক্ষণে বিশ্বাস করাকে অন্য কিছু হাদিসে শিরক বলা হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, কোনো কিছুকে অলুক্ষুণে মনে করা শিরক। কোনো কিছুকে অশুভ মনে করা শিরক, কোনো কিছুকে কুলক্ষণ মনে করা শিরক। আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার মনে কুধারণা জন্মে না, তবে আল্লাহ ওপর ভরসার মাধ্যমে আল্লাহ তা দূর করে দেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৩৯১২) ইমরান ইবনে হোসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি (কোন বস্তু, ব্যক্তি, কাজ বা কালকে) অশুভ বলে মানে অথবা যার জন্য অশুভ লক্ষণ পরীক্ষা করে দেখা হয়, যে ব্যক্তি ভাগ্য গণনা করে অথবা যার জন্য ভাগ্য গণনা করা হয়। যে ব্যক্তি জাদু করে অথবা যার নির্দেশে জাদু করা হয়। (তাবরানি: ১৪৭৭০) সুতরাং এ রকম অপবিশ্বাস অন্তরে জায়গা দেবেন না। নিজের জন্মদিন বা জন্মমাসসহ যে কোনো দিন বিয়ে করতে পারেন। যদি আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা করে তার বিধান মেনে বিয়ে করেন, বিয়ের পর জীবনসঙ্গীর সঙ্গে আল্লাহ তাআলার নির্দেশ অনুযায়ী উত্তম ও দায়িত্বশীল আচরণ করেন, তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা বরকত দান করবেন। ওএফএফ
Go to News Site