Collector
বোতলে মিলছে না তেল, বাধ্য হয়ে শ্যালোমেশিন নিয়ে পাম্পে কৃষক | Collector
বোতলে মিলছে না তেল, বাধ্য হয়ে শ্যালোমেশিন নিয়ে পাম্পে কৃষক
Somoy TV

বোতলে মিলছে না তেল, বাধ্য হয়ে শ্যালোমেশিন নিয়ে পাম্পে কৃষক

ডিজেল সংকটে কৃষিকাজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন রংপুরের কৃষকরা। সময় মতো সেচের পানি না পাওয়ায় বোরো ধান উৎপাদনে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই সংকট আরও তীব্র হচ্ছে কৃষকদের বোতল কিংবা জারকিনে ডিজেল না দেয়ায়।কৃষকদের অভিযোগ, বোরো মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোতলে তেল বিক্রি না করায় বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন নিয়েই ফিলিং স্টেশনে আসছেন তারা। এতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তো বাড়ছেই সঙ্গে বাড়ছে খরচও। এমন পরিস্থিতিতে বোরোর ফলন বিপর্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।সরেজমিন রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার চারটি ফিলিং স্টেশনে ঘুরে দেখা যায়, অনেক কৃষক জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য বোতল নিয়ে ডিজেল কিনতে আসলে তাদের ডিজেল না দিয়েই ফেরত দেয়া হচ্ছে। ফলে সংকট নিরসনে অনেক কৃষকই বাধ্য হয়ে ব্যবহৃত শ্যালো মেশিন ভ্যানে কিংবা সাইকেলে করে সরাসরি পাম্পে এনে তেল সংগ্রহ করছেন। বোতলে তেল না দেওয়ায় অতিরিক্ত ভোগান্তির অভিযোগ করছেন তারা।গংগাচড়া সদর ইউনিয়নের চেংমারী এলাকার কৃষক লাইবুল ইসলাম বলেন, ‘আগে বোতলে তেল নিয়ে সহজেই জমিতে সেচ দিতে পারতাম। এখন বোতলে তেল দিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন নিয়েই পাম্পে আসতে হচ্ছে। এতে মেশিন খুলে নিয়ে আসা আবার গিয়ে নতুন হরে সেট করতে বিপুল সময়, শ্রম ও খরচ গুনতে হচ্ছে।’আরও পড়ুন: ভোট নয়, এবার জ্বালানি তেল নিতেও আঙুলে লাগাতে হচ্ছে কালিগজঘন্টা ইউনিয়নের রাজবল্লভ এলাকার কৃষক মনতাজ আলী বলেন, ‘এই সময়ে ধানের জমিতে নিয়মিত পানি দেওয়া খুব দরকার। কিন্তু জারকিনে (প্লাস্টিকের পাত্র) তেল না পাওয়ায় প্রচুর সমস্যায় পড়েছি। এখন জমিতে সেচ দিতে না পারলে উৎপাদন আশানুরূপ হবে না। আবার ডিজেল সহজে না মেলায় পরতে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আমরা কৃষকরা গভীর সংকটে পড়ব।’গংগাচড়া শিহাব ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সাইয়েদুজ্জামান সবুজ বলেন, ‘কৃষক না হয়েও অনেকেই প্লাস্টিকের জারকিন কিংবা বোতল নিয়ে এসে তেল নিচ্ছে এবং পরে বেশি দামে বিক্রি করছে। তেল সংকট থাকায় আমরা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছি না। তাই বাধ্য হয়ে প্রকৃত কৃষকদের সেচ পাম্প নিয়ে আসতে বলছি। এতে তাদের কষ্ট হচ্ছে এটা আমরা বুঝি। কিন্তু ভুয়া কৃষকদের মাধ্যমে তেল বাইরে বিক্রি ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে বোরো মৌসুমে রংপুর জেলায় ৫৪ হাজার ২৫টি ডিজিল চালিত শ্যালোমেশিন দিয়ে সেচ কার্যক্রম চলে। যেখানে প্রতিদিন ডিজেলর চাহিদা প্রায় ৩৫ হাজার লিটার। তবে কৃষকরা চাহিদার অর্ধেকও ডিজেল পাচ্ছে না অভিযোগ উঠেছে।আরও পড়ুন: যেসব কাগজপত্র না থাকলে মোটরসাইকেলে মিলবে না তেলকৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি সংকট একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তবে কৃষকদের যাতে তেল পেতে সমস্যা না হয়, সে জন্য জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা চলছে। একইসাথে পেট্রোল পাম্প গুলোতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হবে যাতে প্রকৃত কৃষকরা পাম্পে এসে তেল পায়, সে বিষয়ে আমরা নজরদারি করছি।’জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান বলেন, বর্তমানে গরম আবহাওয়া বিরাজ করায় সেচের চাহিদা বেড়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষকরা যাতে সহজে প্রয়োজনীয় জ্বালানি পেতে পারেন, সে জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Go to News Site