Collector
রংপুরের সোহেলের ছোট ‍উদ্যোগে বড় সফলতা! | Collector
রংপুরের সোহেলের ছোট ‍উদ্যোগে বড় সফলতা!
Somoy TV

রংপুরের সোহেলের ছোট ‍উদ্যোগে বড় সফলতা!

রাসায়নিক সার অতিরিক্ত ব্যবহারে কমছে মাটির উর্বরতা, বাড়ছে উৎপাদন খরচ। এমন বাস্তবতায় উত্তরবঙ্গের এক তরুণ উদ্যোক্তা দেখাচ্ছেন ভিন্ন পথ। বিভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি করছেন পরিবেশবান্ধব জৈব সার ভার্মি কম্পোস্ট। তার এই উদ্যোগে গ্রামটি পরিচিতি পেয়েছে জৈব গ্রাম নামে।রংপুরের খুদিরচড়া গ্রামের উচ্চশিক্ষিত তরুণ সোহেল। চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু করেন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন। শুরুটা অত সহজ ছিল না। পরিবারের সদস্যদের অনুপ্রেরণায় এগিয়ে যান তিনি। ধীরে ধীরে ছোট উদ্যোগটিই রূপ নেয় একটি সফল প্রকল্প হিসেবে। মাটির প্রাকৃতিক লাঙ্গল খ্যাত কেঁচোর মাধ্যমে ক্যারেট এবং বড় টেবিল পদ্ধতিতে তৈরি হচ্ছে এই জৈব সার। খামার থেকে সংগ্রহ করা তাজা গোবর, এরপর তাতে ছেড়ে দেয়া হয় কেঁচো। কেঁচো গোবর খেয়ে যে মল ত্যাগ করে, সেটিই উৎকৃষ্ট মানের ভার্মি কম্পোস্ট।গ্রামের অনেকেই এখন রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সার ব্যবহারে আগ্রহী হয়েছেন। ছবি: সময় সংবাদ  আরও পড়ুন: ‘গোলমরিচে’ বদলে যাবে পাহাড়ের অর্থনীতি, কী বলছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা? তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. মেহেদি হাসান সোহেল বলেন, ‘আমাদের প্রথম যে চ্যালেঞ্জটা ছিল সেটা হল আমাদের একটা কমপ্লিট মাসিক সার্কেল সেটাআপ তৈরি করা। যে সেটআপ টিতে প্রতিদিন যেন ২০টা করে ক্যারেট  প্রস্তুত করা যায়। তাহলে মাসে ৩০ দিনে অন্তত যেন ৬০০ ক্যারেট আমরা প্রস্তুত করতে পারি। আমরা যখন এই সার্কেলটা কমপ্লিট করি, এরপর আমরা একদিকে প্রতিদিনই ২০ টি ক্যারেট প্রস্তুত করছি আবার অপরদিকে ২০ টা ক্যারেট থেকে  প্রস্তুতকৃত সার মজুত করছি। আর এই সার্কেল পদ্ধতিটা সহজে করবার জন্য আমারা সর্বপ্রথম টেবিল পদ্ধতি অবলম্বন করেছি। টেবিল পদ্ধতি জৈব সার তৈরিতে সময় কমিয়ে দিয়েছে, এটা আমাদের শ্রমিক এর খরচ কমিয়ে দিয়েছে এবং এই পদ্ধতির সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হচ্ছে যে এটা আমাদের পরিশ্রম কমিয়ে সার উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে।’ শুধু ব্যবসায়িক সফলতাই নয়, নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সোহেলের। আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেয়া এবং প্রয়োজনীয় কেঁচো সরবরাহ করার স্বপ্নও দেখছেন তিনি। সোহেল আরো বলেন, আমাদের গ্রামের মানুষ যে এত স্মার্ট কৃষিতে তা আমি প্রজেক্ট শুরু না করলে জানতাম না। রাসায়নিক সার যে মাটির ক্ষতি করছে তারা ইতিমধ্যেই ফসলের উৎপাদন এবং মাটির উর্বরতা দেখে বুঝতে পারছেন। তারা জৈব সার ব্যবহারের দিকে এগোতে শুরু করেছেন। ভার্মি কম্পোস্ট মাটির উর্বরতা বাড়ায়, পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া কমিয়ে মাটির প্রাণ ফিরিয়ে আনে। স্থানীয় কৃষকরা আলু, ধান সহ বিভিন্ন সবজি চাষে এই সার ব্যবহার করছেন। খুদিরচড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, রাসায়নিক সার আমরা আগে ব্যবহার করতাম এখন জৈব সার ব্যবহারের ফলে অনেক উপকার পাচ্ছি। কম খরচে বেশি উৎপাদন, ফসলের গুণগত মান ভালো এবং সব থেকে বড় কথা মাটি উর্বর থাকছে এক ফসল তুলেই আমরা পরের ফসলে আবার সহজেই যেতে পারছি। এই গ্রামেরই আরেকজন কৃষক নসির উদ্দিন জানান, আলু, ধান, মরিচ এবং বেগুন চাষ করি আমরা। আগে যখন রাসায়নিক সার ব্যবহার করতাম তখন মাটিতে আমাদের প্রচুর পরিমাণে সেচ দিতে হতো। এখন রাসায়নিক সার অল্প ব্যবহার করে জৈব কেঁচো সার অধিক পরিমাণে আমরা ব্যবহার করি এতে জমিতে পানি সেচ কম দিতে হয়, উৎপাদন ভালো হয়, পরিশ্রমও কম হয়। ফসলও ভালো থাকে। তাই আমাদের গ্রামের যত কৃষক আছে আমরা সকলেই জৈব সার ব্যবহার করা শিখছি। রংপুরের পীরগাছার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল হক বলেন,  রাসায়নিক সার নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মাটির অম্লত্ব বাড়ছে। আর অপরদিকে জৈব সার সেই অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের ব্যালেন্স ঠিক রাখছে। এছাড়া নিয়মিত রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটির উর্বর ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে কেঁচো দিয়ে তৈরি ভার্মি কম্পোস্ট আমরা যদি নিয়মিত ব্যবহার করি মাটিতে যে ৫ শতাংশ জৈব উপাদানের প্রয়োজন তা ঠিক থাকবে এবং সকল ফসলের উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আগের তুলনায় বাড়বে। আরও পড়ুন: কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে গতি আনতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: নুর এক সময় তরুণ সোহেল শুরু করেছিলেন ছোট্ট একটি উদ্যোগ। আজ সেই উদ্যোগই হয়ে উঠেছে সফলতার একটি গল্প। ক্যারেট এবং টেবিল পদ্ধতিতে বর্তমানে সোহেলের প্রজেক্টে মাসে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১০ টনের বেশি ভার্মি কম্পোস্ট। কেঁচোর মাধ্যমে তৈরি জৈব সার বদলে দিচ্ছে কৃষির চিত্র, ফিরিয়ে আনছে মাটির প্রাণ।

Go to News Site