Somoy TV
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধারণ আলেম সমাজ।রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত শহীদ পরিবারের আর্তনাদ ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জুলাই গণহত্যা মামলার আসামি এবং যুবলীগ-সম্পৃক্ত সচিব আলাউদ্দিন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দোহাই দিয়ে পরিকল্পিতভাবে জাদুঘর চালু হতে দিচ্ছেন না। বক্তারা বলেন, একজন আসামির হাতে শহীদদের শেষ স্মৃতির ভবিষ্যৎ জিম্মি হয়ে আছে, এটা রাষ্ট্রের জন্য চরম লজ্জাজনক। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই জাদুঘর শুধু একটা ভবন না, এটা শহীদদের শেষ স্মৃতির আশ্রয়স্থল। শহীদ পরিবার তাদের প্রিয়জনদের শেষ স্মৃতিচিহ্ন আমাদেরকে বিশ্বাস করে এখানে তুলে দিয়েছে। অথচ সেই স্মৃতিকে অন্ধকারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এটা শহীদদের প্রতি অবমাননা এবং পরিবারগুলোর সঙ্গে নির্মম উপহাস ছাড়া কিছুই না। আরও পড়ুন: জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে যারা আসবে তারা গণভবনে জনতার ঢলকে অনুভব করবে: প্রধান উপদেষ্টা নেতারা আরও বলেন, জুলাই জাদুঘর জুলাইয়ের স্মৃতির পাশাপাশি বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরে আওয়ামী লীগ সরকারের নারকীয় গণহত্যাসহ গত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী আমলের স্মৃতি নিয়ে নির্মিত হয়েছে। আমাদের মতে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট অনীহা ও উদাসীনতার কারণেই জাদুঘরটি এখনও চালু হয়নি। আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, সংস্কৃতিমন্ত্রী দেশের নিজস্ব সংগ্রামের ইতিহাসকে উপেক্ষা করে ভিন্ন দেশের সংস্কৃতি আমদানিতে বেশি আগ্রহী, যা জাতির আত্মপরিচয়ের পরিপন্থী। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক ধারা গড়ে উঠেছিল, সেটিকে ধ্বংস করে আবার পুরনো দলীয় সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, যা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। আমরা আজকের সংবাদ সম্মেলন থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, আগামী ১৪ এপ্রিলের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য খুলে দিতে হবে। অন্যথায় শহীদ পরিবারকে নিয়ে কঠোর ও সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে, যার দায় সম্পূর্ণরূপে সরকারের ওপর বর্তাবে।
Go to News Site