Somoy TV
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বোর্ডে চলমান অস্থিরতা ও তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পরও নিজের পদে থাকার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ জানিয়েছেন।গত বছরের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত বিসিবির বোর্ড নির্বাচনে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি তাদের প্রতিবেদন এরইমধ্যে সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ, শেষ নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জাতীয় দলের অনুপস্থিতি এবং বোর্ডের ভেতরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমতাবস্থায় গত দুই দিনেই চারজন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন, জানুয়ারি থেকে হিসেব ধরলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ছয়ে।শনিবার,(৪ এপ্রিল) একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিসিবি সভাপতি বুলবুল বলেন, 'আমি আমার চেয়ারে বসে থাকব, আর কী করতে পারি? আমি সবার শেষে যাব। আমাদের দলে খুব ভালো, নিবেদিতপ্রাণ ও সৎ মানুষ রয়েছে। আমি এই দল নিয়েই বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সেবা করতে চাই।'তিনি আরও বলেন, 'কেউই অপরিহার্য নয়। আমি একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে আইসিসিতে কাজ করেছি। আমি বলছি না আমি খুব বড় কিছু, কিন্তু আমার অভিজ্ঞতার কারণেই এখানে আছি। আমি সবকিছু ছেড়ে দেশের জন্য কাজ করতে এসেছি। যদি এটা আর আমার না থাকে, তাহলে অন্য পথ দেখব। কিন্তু আমি দেশকে সহায়তা করতে চাই।' আরও পড়ুন: বিসিবিতে পদত্যাগের হিড়িক, কী বলছেন কর্তারা?তদন্ত কমিটির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ না করার বিষয়ে বুলবুল জানান, সময়সূচির সংঘর্ষের কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি এবং লিখিত জবাব দিয়েছেন।তিনি বলেন, 'আমি কমিটির সামনে যাইনি, কারণ আমি দুইটি আলাদা মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তাই সময় মেলেনি। আমি লিখিতভাবে উত্তর দিয়েছি। নির্বাচনে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। শুধু একটি জায়গায় ছিলাম, যা এখন তদন্তাধীন।'তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'আমাদের সংবিধান অনুযায়ী জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো অ্যাড-হক কমিটি পরিচালনা করে এবং সেখান থেকেই কাউন্সিলরদের নাম আসার কথা। কিন্তু যখন মাত্র তিনটি নাম আসে, তখন আমরা তাদের আবার চিঠি দিই এবং অ্যাড-হক কমিটি থেকেই নাম পাঠাতে বলি। এটুকুই ছিল আমার সম্পৃক্ততা।' আরও পড়ুন: তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া না দেওয়ার কারণ জানালেন আসিফ মাহমুদউল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে ফারুক আহমেদের পরিবর্তে সরকার-সমর্থিত পরিচালক হিসেবে বোর্ডে যোগ দিয়ে সভাপতি হন আমিনুল ইসলাম। যদিও তখন তিনি এটিকে 'দ্রুত টি-টোয়েন্টি ইনিংস' বলেছিলেন, পরে অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতি নির্বাচিত হন।তবে নির্বাচনের আগে জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান এবং আমিনুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।
Go to News Site