Jagonews24
কখনো হঠাৎ মন খারাপ, অকারণে বিরক্তি - আবার কিছুক্ষণ পরেই সব স্বাভাবিক। অনেকেই এটাকে মুড সুইং বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু যদি এই ওঠানামা বারবার হয়, তার পেছনে শুধু মানসিক চাপ নয়, শারীরিক একটি কারণও থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পরিবর্তনের পেছনে দায়ী হতে পারে থায়রয়েড গ্রন্থির সমস্যা। গলার সামনের দিকে থাকা এই ছোট গ্রন্থিটি শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। আর এই হরমোনের সামান্য ভারসাম্যহীনতাও শরীর ও মনের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। থায়রয়েড কীভাবে মেজাজে প্রভাব ফেলে? থায়রয়েড হরমোন মূলত শরীরের মেটাবলিজম বা শক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু এখানেই শেষ নয় - এটি মস্তিষ্কের কাজ, আবেগ, এমনকি ঘুমের সঙ্গেও জড়িত। যখন হরমোনের মাত্রা বেশি বা কম হয়, তখন শরীরের পাশাপাশি মানসিক অবস্থাতেও পরিবর্তন দেখা দেয়। ফলে কেউ অকারণে অস্থির, বিরক্ত বা বিষণ্ণ বোধ করতে পারেন। কোন ধরনের সমস্যায় কী লক্ষণ দেখা যায়? ১. হাইপারথাইরয়েডিজম (হরমোন বেশি হলে)এই অবস্থায় শরীর অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়ে। লক্ষণগুলো হতে পারে - হঠাৎ রাগ বা অস্থিরতা অযথা দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া ঘুম কমে যাওয়া ওজন দ্রুত কমে যাওয়া অতিরিক্ত ঘাম হওয়া অনেক সময় এই অবস্থাকে শুধু অ্যাংজাইটি ভেবে ভুল করা হয়। ২. হাইপোথাইরয়েডিজম (হরমোন কম হলে)এ ক্ষেত্রে শরীরের গতি ধীর হয়ে যায়। লক্ষণগুলো - মন খারাপ বা বিষণ্ণতা ক্লান্তি, অবসাদ মনোযোগে ঘাটতি ওজন বেড়ে যাওয়া ঠান্ডা বেশি লাগা এটি অনেক সময় ডিপ্রেশন মনে হতে পারে। কখন সতর্ক হবেন? যদি লক্ষ্য করেন মুড বারবার অকারণে পরিবর্তন হচ্ছে, এর সঙ্গে শারীরিক লক্ষণও দেখা যাচ্ছে এবং সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলছে, তাহলে শুধু মানসিক দিক থেকে না দেখে শারীরিক কারণও খতিয়ে দেখা জরুরি। কী করবেন? প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা (থায়রয়েড ফাংশন টেস্ট) করা যেতে পারে। এতে হরমোনের মাত্রা বোঝা যায়। সঠিক সময়ে রোগ ধরা পড়লে ওষুধ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য ও স্ট্রেস কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। মেজাজের হঠাৎ পরিবর্তন সবসময়ই শুধু আবেগের বিষয় নয় - কখনো কখনো শরীরের ভেতরের ছোট একটি গ্রন্থিও এর জন্য দায়ী হতে পারে। তাই লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে সময়মতো কারণ খুঁজে বের করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশন, এনএইচএস, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং এএমপি/জেআইএম
Go to News Site