Collector
নির্দয় অ্যাম্বুলেন্স চালক, সন্তানের মৃত্যুতে অসহায় বাবার আর্তনাদ | Collector
নির্দয় অ্যাম্বুলেন্স চালক, সন্তানের মৃত্যুতে অসহায় বাবার আর্তনাদ
Somoy TV

নির্দয় অ্যাম্বুলেন্স চালক, সন্তানের মৃত্যুতে অসহায় বাবার আর্তনাদ

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দিনগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।শিশুটির বাবা মো. আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, মাত্র ৫শত টাকার জন্য আমার সন্তানকে বাঁচাতে পারিনি। তিনি বলেন, ‘আমার তিন দিনের সন্তানের পায়খানা ও প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিলে তাকে লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। দায়িত্বরত চিকিৎসক আমার সন্তানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি অথবা চট্টগ্রাম নিয়ে যেতে পরামর্শ দেন। কিন্তু আমার কাছে টাকা না থাকায় পাশের একটি ক্লিনিকে নেয়া হলে তারাও একই পরামর্শ দেয়ায় পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফিরে আসি।’ মো. আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স চালককে খবর দেন। তিনি আসতে দেরি হওযায় আমি তার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত আসতে বলি। তারও আধাঘণ্টা পরে ডাক্তারের কল পেয়ে চালক হাসপাতালে আসেন।’তিনি অভিযোগ করেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স ছাড়ার আগে চালক রতন চাকমা আমার থেকে কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে দুই হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগেই আমাকে জানিয়েছিল সরকারি ভাড়া চৌদ্দশত টাকা। কিন্তু আমরা তাকে পনেরশ টাকা দিলে তিনি আমাদের অকথ্য ভাষা গালাগালি করে। বলেন গরিব মানুষকে আবার অ্যাম্বুলেন্সে করে যেতে হবে কেন? এখানেই শেষ নয়, মাঝ পথে মেরুং বাজারে অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে জনৈক ব্যক্তির সাথে ১০/১৫ মিনিট গল্প শেষে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।’তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে পৌঁছালে অক্সিজেন কী করব, জানতে চাইলে তিনি সেটি খুলে ফেলতে বলেন। তার কথামতো আমার স্ত্রীও অক্সিজেন লাইন খুলে ফেলে। খাগড়াছড়ি হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নেয়ার পর পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ডা. আমার সন্তানকে মৃত ঘোষণা করেন।’ চালকের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে আমার বাবা মারা গেছেন। এখন আমার সন্তানকে হারালাম। আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। অভিযোগের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নিব।’ আরও পড়ুন: লম্বা ছুটিতে পর্যটকের ঢল রাঙ্গামাটিতে, শতকোটি টাকার ব্যবসাতবে লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যম্বুলেন্স চালক রতন চাকমা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তাদের কাছে কোনো বাড়তি ভাড়া দাবি করা হয়নি। গালিগালাজের বিষযটিও সত্য নয়। তবে তারা অক্সিজেন লাইন কী করবে জানতে চাইলে বলেছি লাইন খুলে রেখে যান।’ লংগদু উপজেলা পরিবার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিশাত জাহান নওরীন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। চালককে শোকজ করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’  রাঙ্গামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা জানান, ‘বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করতে নির্দেশনা দেযা হয়েছে। প্রতিবেদনে হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। তদন্তে চালকের কোন গাফিলতি প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Go to News Site