Somoy TV
দেশে প্রথমবারের মতো গুণগত মান ও ব্যবস্থাপনায় উৎকর্ষতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ‘কানো-বিএসটিকিউএম কোয়ালিটি অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়েছে।রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল বল রুমে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রথম বিজয়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড-এর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। বাংলাদেশ সোসাইটি ফর টোটাল কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (বিএসটিকিউএম) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে টোটাল কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (TQM) দর্শনের বিশ্বখ্যাত কিংবদন্তি ও টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. নোরিয়াকি কানো বিজয়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি তুলে দেন। হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষে ট্রফি ও সনদ গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির ডিএমডি ও সিইও মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান।এসময় তিনি বলেন, হেলথকেয়ার লিমিটেড পরিবারের সবার জন্য এটি অত্যন্ত গর্ব ও বিনয়ের একটি মুহূর্ত। এটি কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি নয়; এটি একটি যাত্রা এবং উৎকর্ষ, গ্রাহক সন্তুষ্টি ও গুণগত মানের প্রতি অঙ্গীকারের স্বীকৃতি। হেলথকেয়ারে আমরা যখন গুণগত মানের কথা বলি, তখন এটি শুধু নিয়ম মেনে চলা নয়; এটি বিশ্বাসের বিষয়। আমাদের কারখানা থেকে বের হওয়া প্রতিটি ট্যাবলেট, প্রতিটি ভায়াল, প্রতিটি ডোজ একটি প্রতিশ্রুতি বহন করে- রোগী, চিকিৎসক এবং সমাজের প্রতি নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও ধারাবাহিকতার প্রতিশ্রুতি। আমরা কেবিকিউএ-এর প্রথম প্রাপক হতে পেরে গর্বিত, এবং আশা করি আমরা শেষ নই।আরও পড়ুন: চালু হচ্ছে কানো-বিএসটিকিউএম কোয়ালিটি অ্যাওয়ার্ড নিজের প্রবর্তিত এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুগ্ধতার কথা জানান অধ্যাপক ড. নোরিয়াকি কানো। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে আমি প্রথম আমার নামে এই পুরস্কার চালুর কথা শুনি। দুই-তিন বছর আগে আমাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়, এবং তখন আমি ভাবি- এটি আর শুধু স্বপ্ন নয়, তারা সত্যিই এটি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।গুণগত ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব তুলে ধরে মি. কানো বলেন, আমি বিশ্বাস করি এটি অব্যাহত থাকবে। পুরস্কারই লক্ষ্য নয়; এটি একটি মাইলফলক।এই পুরস্কারের মূল ধারণা গুরুত্বপূর্ণ, তবে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি অবশ্যই হতে হবে ন্যায্য ও স্বচ্ছ। গুণগত মানের যাত্রা কোনো স্বল্পমেয়াদি যাত্রা নয়। আমি একটি শব্দ বেছে নেব ‘কমেন্সমেন্ট’ (শুরু)। এই পুরস্কার শুধু গুণগত ব্যবস্থাপনা উন্নত করে না, বরং উপস্থাপন ও যোগাযোগ দক্ষতাও বাড়ায়। মূল্যায়নকারীদের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করতে হয়, গ্রাহক বা বাজারের কাছে কীভাবে পণ্য উপস্থাপন করতে হয়- এসব দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, এটি শুধু হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের জন্য নয়, বরং বিএসটিকিউএম-এর জন্যও একটি উদযাপন হয়ে থাকবে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান ও কুয়েটের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এহসানুল হক।জাপানের সম্মানজনক ‘ডেমিং প্রাইজ’ বা ‘সিঙ্গাপুর কোয়ালিটি অ্যাওয়ার্ড’-এর আদলে প্রবর্তিত এই পুরস্কারের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত কঠোর ও নিরপেক্ষ।বিএসটিকিউএম-এর সভাপতি এ কে এম শামসুল হুদা জানান, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে এই অ্যাওয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। লিড অ্যাসেসর ইঞ্জিনিয়ার এ এম এম খাইরুল বাশার অনুষ্ঠানে মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. আমেনা বেগমসহ বিএসটিকিউএম-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Go to News Site