Jagonews24
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের নিয়োগের যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং নিয়োগ স্থগিত চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা রোববার (৫ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশেক-ই-রসুল এ রিট দায়ের করেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশের ৬ ধারায় কমিশনের চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের নিয়োগ, মেয়াদ ও পদত্যাগের বিষয়ে বলা আছে। অধ্যাদেশের ৭ ধারায় চেয়ারপারসন-কমিশনারদের শূন্য পদে নিয়োগের জন্যে সুপারিশ প্রদানের বাছাই কমিটি গঠন বিষয়ে বলা আছে। অধ্যাদেশের ৬(১) ধারার অধীন কমিশনের চেয়ারপারসন ও চারজন কমিশনার নিয়োগ দিয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আইনজীবী বলেন, প্রথমে ২০০৭ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ হয়, যা ২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন হিসেবে অনুমোদিত হয়। অধ্যাদেশে চেয়ারপারসন-কমিশনারদের বয়সসীমা ছিল সর্বোচ্চ ৭০ বছর। আরও পড়ুনডেলিভারিতে স্ত্রীর পাশে থাকার অনুমতি পেলেন সাবজেলে থাকা সেনা কর্মকর্তা স্ত্রীকে পাগল সাজাতে জালিয়াতি: আ’লীগ নেতা হাবিবকে গ্রেফতারে পরোয়ানা ২০০৯ সালের আইনে ৭২ বছর করা হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে চেয়ারপারসন-কমিশনারদের বয়সসীমার বিষয়টি উল্লেখ নেই। ফলে পছন্দসই ব্যক্তিকে এসব পদে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকছে। নির্বাচন কমিশন, তথ্য কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনে নির্ধারিত বয়সসীমা উল্লেখ রয়েছে বলে জানান আইনজীবী আশেক-ই-রসুল। তিনি বলেন, এর কোনোটিতেই ৭০ বছরের বেশি নয়। অধ্যাদেশের ৭ ধারা অনুসারে বাছাই কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে অভিযোগের তদন্ত ও অনুসন্ধান করা কমিশনের কাজ, যার মধ্যে কোনো রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠান বা শৃঙ্খলা বাহিনী বা অন্য কোনো ব্যক্তিও রয়েছেন। ফলে নিয়োগে সুপারিশ করা (মন্ত্রিপরিষদ সচিব) ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে মানবাধিকার কমিশন স্বচ্ছ ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে কি না- এ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তাই অধ্যাদেশের ৬ ও ৭ ধারা এবং নিয়োগ সংক্রান্ত গত ৫ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে রিট করা হয়েছে। এফএইচ/কেএসআর
Go to News Site