Somoy TV
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। জ্বালানি সংকটে বাড়ছে লোডশেডিংও - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান খবর এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল সংকটে যখন চারপাশে চরম অস্থিরতা চলছে, তখন নতুন ভোগান্তি হয়ে এসেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। তীব্র গরম শুরু হতেই বেড়েছে লোডশেডিংয়ের তীব্রতাও। ভাপসা আবহাওয়ার মধ্যে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। জ্বালানি সরবরাহে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সামনে সেচ ও গ্রীষ্মকাল, তখন বিদ্যুতের চাহিদার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু বিদ্যুৎ খাতে বিপুল অঙ্কের বকেয়া, ভর্তুকির ঘাটতি, জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের শর্ত-সব মিলিয়ে দেশের বিদ্যুৎ খাত এখন গভীর আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। এদিকে গতকাল থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নতুন সময়সূচিতে অফিস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে দোকানপাট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত কিছুটা সংশোধন করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাড়িয়ে ৭টা করা হয়েছে। জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত অর্থনীতি/ বেশি প্রভাব দশ খাতে - দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। আর এর প্রভাব পড়েছে সব খাতে। ইতোমধ্যেই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংক খাতসহ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা টালমাটাল অবস্থায় আছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ সেটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধের কারণে দেশের অন্তত ১০টি খাতের প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে-বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহণ, শিল্প খাত, কৃষি, আমদানি-রপ্তানি, গৃহস্থালি, সেবা, নির্মাণ, পর্যটন ও বিনোদন এবং টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাত। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর। মোট জ্বালানির ৬৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। আবার জ্বালানি মজুদেরও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানির গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বড় সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। জ্বালানি সংকটে কমেছে যান চলাচল, বেড়েছে ভাড়া - দৈনিক সমকালের প্রধান খবর এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন খাতে। ডিজেল সরবরাহে ঘাটতির কারণে সড়কে প্রাইভেটকার, বাস, মিনিবাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বাসের চলাচল কমেছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। এতে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে অফিস শুরু ও ছুটির সময়ে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠছে। পণ্য পরিবহন ভাড়া তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। কমেছে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার। নৌযান চলাচল কোথাও কোথাও বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল রোববার রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেকেই বাস না পেয়ে বিকল্প হিসেবে রিকশা বা রাইড শেয়ারিং সেবার দিকে ঝুঁকছেন, যা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েক গুণ। কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। চালক-শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। অনেকেই বেকার হয়ে গেছেন। দীর্ঘ সময় জ্বালানি সংগ্রহের লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।দুশ্চিন্তায় পোশাক খাত - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাতে। পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, শিল্প মালিকরা কারখানা সচল রাখতে চাহিদা মতো ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলএনজি পাচ্ছেন না। এ ছাড়া যুদ্ধ যদি লম্বা সময় স্থায়ী হয় তখন এর প্রভাব সরাসরি পড়বে। বিজিএমইএ’র প্রতিবেদন ও পোশাক খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতার অর্ধেকও উৎপাদন করতে পারছে না। বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। অনেক পাম্পে তেল থাকলেও দিচ্ছে না। অনেক সময় তেল নিতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে।রাজস্ব খাত সংস্কারেও পিছু হটা - দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজস্ব খাত সংস্কার করে অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তা এখনই বিল আকারে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করছে না বিএনপি সরকার। ফলে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারাবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে সরকার রাজস্ব খাতের মতো ‘অরাজনৈতিক’ সংস্কারেও পিছু হটল। যদিও দেশের অর্থনীতির জন্য এ সংস্কার খুবই জরুরি। রাজস্ব খাতে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সংস্কার করে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১২ মে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করে। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঠামো পুনর্গঠন করে দুটি বিভাগ করা হয়। একটি হলো রাজস্ব নীতি বিভাগ, যার কাজ করনীতি তৈরি করা, আইন সংশোধন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, গবেষণা ইত্যাদি। অর্থাৎ করহার নির্ধারণের কাজটি করবে রাজস্ব নীতি বিভাগ। অন্য বিভাগটির নাম রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, যেটি মূলত কর আদায়ের কাজ করবে।এক ল্যাবে নির্ভরতা, হাম শনাক্তে সময় বাড়ছে - দৈনিক বণিকবার্তার প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে বাড়তে থাকা হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রোগ শনাক্তে ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমানে সারা দেশ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দেয়া রোগীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে। ফলে পরীক্ষার চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল পেতে সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক স্যাম্পল ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু একটি ল্যাবের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় দ্রুত পরীক্ষা সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে রোগ শনাক্তে বিলম্ব হচ্ছে, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
Go to News Site