Somoy TV
কখনও হানিফ সংকেত-এর কণ্ঠে উপস্থাপনা, কখনও আঞ্চলিক ভাষায় গান আর গ্রাম্য গীত আবার কখনও খেলায় ধারাভাষ্য, সব মিলিয়ে নেট দুনিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন রঞ্জু মিয়া নামে এক তরুণ। পুরো রংপুর অঞ্চলে পরিচিতি পেয়েছেন ভাইরাল রঞ্জু নামে।একটা মোবাইল ক্যামেরাই বদলে দিতে পারে জীবন; ভাইরাল রঞ্জু তারই এক জীবন্ত উদাহরণ। একসময়ের অন্যের মুখাপেক্ষী রঞ্জু এখন হয়েছেন অনেকের অনুপ্রেরণা। গাইবান্ধা সদরের দারিয়াপুর গ্রামের মো. হায়দার আলীর ছেলে রঞ্জু মিয়া। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে রঞ্জু সবার ছোট। বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বানিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। তবে দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা রঞ্জুর কনটেন্ট ক্রিয়েটর হওয়ার শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। সময় সংবাদকে রঞ্জু মিয়া বলেন, ২০১৮ বা ১৯ সালের কথা, এক জায়গায় খেলার ধারাভাষ্য দিচ্ছিলাম। তখনই মুন্না নামে এক যুবক উৎসাহ দেন ফেসবুকে পেজ খুলে ভিডিও আপলোড করতে। তারপর সেখানে ফেসবুকে পেজ খুলে শুরু করি ভিডিও আপলোড করা।’ আরও পড়ুন: বেকার যুবকদের অনুপ্রেরণার গল্প কমলগঞ্জের সিরাজের কুটিরশিল্প রঞ্জু বলেন, আমার পরিবারে এতই দরিদ্র ছিল যে একটা ফোন কেনার সামর্থ্য ছিল না। মানুষের ফোনে ভিডিও বানিয়ে ফেসবুকে আপলোড দিতাম। পরে আমার এলাকার চেয়ারম্যান একটি মোবাইল কিনে দিলে শুরু করি কাজ। রঞ্জু আরও বলেন, ‘শুরুর দিকে বিভিন্ন খেলা, সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আর ফানি ভিডিও আপলোড দিতাম। তবে তেমন সাড়া পাইনি। পরে একা একা কি করা যায় চিন্তা করতে করতে মাথায় আসে হানিফ সংকেত স্যারের কথা। ছোটবেলা থেকেই আমি তার উপস্থাপনার ভক্ত ছিলাম। একদিন আমার এলাকায় মোবাইল দিয়ে একা একা চেষ্টা করি হানিফ সংকেত স্যারের মতো উপস্থাপনা করতে। সেই থেকে শুরু আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।’ অভাবের সংসারে পরিবারের হাল ধরতে মাধ্যমিকের শুরুতেই লেখাপড়া থামিয়ে দিতে হয় রঞ্জুকে। বর্তমানে নেট দুনিয়ার আয় দিয়ে বাবার ঋণ শোধ করাসহ এখন নিজেই খুলেছেন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রঞ্জু মিয়া বলেন, আমার পরিবারের অভাবে কারণে ষষ্ঠ শ্রেণিতেই পড়ালেখা শেষ করতে হয়। তবে বর্তমানে ফেসবুক-ইউটিউব থেকে যে আয় আসে তা দিয়ে পরিবারের ঋণ শোধ করেছি, নিজেই দিয়েছি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে আমার পরিবারসহ অনেক ভালো আছি। পাশাপাশি আরো সমাজের অবহেলিত মানুষদের সহযোগিতার চেষ্টা করে যাচ্ছি। বর্তমানে রঞ্জু মিয়া রংপুর বিভাগের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরাসহ আঞ্চলিক ভাষায় গান ও গীত তৈরি করছেন। হানিফ সংকেতের কণ্ঠে উপস্থাপনা আর আর আঞ্চলিক ভাষায় এসব গান ও গীত মিলিয়ন মিলিয়ন দর্শক দেখছেন তার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে। ভবিষ্যতে নিজের ব্যবসা বাড়ানোর পাশাপাশি সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা জানান তিনি। আরও পড়ুন: রাজধানীতে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা, কী বলছেন পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা? রঞ্জু মিয়া বলেন, বর্তমানে গাইবান্ধা সদরের দারিয়াপুর আমার একটি কাপড়ের শোরুম রয়েছে। সেখানে কয়েকজন কর্মী কাজ করছেন প্রতিনিয়ত। এছাড়া আমি পুরো বিভাগ চষে বেড়াই ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরবার জন্য। পাশাপাশি আমার নিজের গান ও গীত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আগামীতে সংস্কৃতির সাথে থাকতে চাই।
Go to News Site