Collector
চুরির কবলে সেচব্যবস্থা, হুমকিতে ২০০ বিঘা জমির ধান | Collector
চুরির কবলে সেচব্যবস্থা, হুমকিতে ২০০ বিঘা জমির ধান
Jagonews24

চুরির কবলে সেচব্যবস্থা, হুমকিতে ২০০ বিঘা জমির ধান

চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাতের আঁধারে তৎপর হয়ে উঠছে সংঘবদ্ধ চোর চক্র। একের পর এক খুলে নেওয়া হচ্ছে ট্রান্সফর্মার, তুলে নেওয়া হচ্ছে সেচ পাম্প। সদর উপজেলার শাজাহানপুর ইউনিয়নের নন্দনপুর পশ্চিম মাঠে গত তিন মাসে অন্তত অর্ধ শতাধিক পাম্প ও ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ৩০ মার্চ এক রাতেই ১০টি মোটর চুরি হয়েছে। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সেচ বন্ধ থাকায় শুকিয়ে যাচ্ছে জমি, ব্যাহত হচ্ছে বোরো ধানের উৎপাদন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার চুরির ঘটনা ঘটলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। এমনকি পল্লিবিদ্যুৎ ও থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না। তাদের দাবি, পাম্প চুরি বন্ধ না হলে প্রায় ২০০ বিঘা জমির ধান শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। সদর উপজেলার শাজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক লতিফুর হামমান বলেন, গত এক বছরে আমার অন্তত ৫টি মোটার, একটি ট্রান্সফর্মার চুরি হয়েছে। বার বার কত টাকা দিয়ে কেনা যায়। এদিকে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। পাচ্ছি না তেল। ডিজেল সংকটও রয়েছে। হাকিম এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত দুইদিন আগে আমার মোটর চুরি হয়েছে। এছাড়া খলিলের একটি মোটর, নাসিরের একটি, মফিজ আলীর তিনটি, মতিউর রহমানের একটি, মতিনের একটি, রশিদের একটি মোটর চুরি হয়েছে গেলো চারদিনের ব্যবধানে। কৃষকরা জানান, একদিকে ডিজেল সংকট, অন্যদিকে কৃষিপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে ফসল উৎপাদনে অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে তাদের। এরপরও ন্যায্যমূল্য নিয়ে রয়েছে ঝুঁকি। এসবের মধ্যে পানির মোটর ও ট্রান্সফর্মার চুরি নতুন আতঙ্ক যোগ করেছে তাদের মধ্যে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনাইন বিন জামান বলেন, চরাঞ্চলে ফসলে অতিরিক্ত সেচ দিতে হয়। সময়মতো সেচ না পেলে ফসল ফলানো যাবে না। তিনি চুরির বিষয়টি জেনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আগামীতে সোলার প্যানেল বা পাতকুয়া যুক্ত করার কথাও জানান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, চুরি প্রতিরোধে কৃষক এবং স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত সভা ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নিজ দফতরের কেউ জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। যাদের অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের নিয়ে পুলিশ কাজ করে অনেক মালামাল উদ্ধার করেছে। সোহান মাহমুদ/এফএ/এএসএম

Go to News Site