Collector
শিগগিরই বোর্ড ভেঙে গঠন হচ্ছে আহ্বায়ক কমিটি! | Collector
শিগগিরই বোর্ড ভেঙে গঠন হচ্ছে আহ্বায়ক কমিটি!
Jagonews24

শিগগিরই বোর্ড ভেঙে গঠন হচ্ছে আহ্বায়ক কমিটি!

তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে ২৪ ঘণ্টা আগেই। গত বছর অক্টোবরে হওয়া বিসিবির প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন নিয়ে তিন ক্যাটাগরির (ঢাকার ৫০ ক্লাব, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার মনোনয়নবঞ্চিত বড় অংশ এবং সাবেক ক্রিকেটার, সার্ভিসেস, ইউনিভার্সিটির সমন্বয়ে গড়া ক্যাটাগরি -৩) লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাবেক বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ১১ মার্চ। নির্ধারিত সময়, ১৫ কর্মদিবস পূর্ণ হওয়ার ৪দিন আগে ৫ এপ্রিল তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সুপারিশও প্রদান করেছে এবং রিপোর্ট ও সুপারিশমালা প্রদানের সময় তদন্ত কমিটি প্রধান বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান মিডিয়ায় জানিয়েও দিয়েছেন, তারা (তদন্ত কমিটি) কারো বিপক্ষে অভিযোগ আনেননি। বিসিবি পরিচালক পর্ষদ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও সুন্দর করতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাবও দিয়েছেন। এদিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়ার দিনই বিকেলে তা নিয়ে মন্তব্য করেছেন এনএসসি প্রধান তথা ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন আইসিসির কাছে পাঠানো হবে এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ চেয়ারম্যানের ওই মন্তব্যই বলে দিয়েছে যে, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আইসিসির কাছে পাঠানোর পর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে সত্যটা উহ্য থেকে গেছে, তা হলো- আইসিসির কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেলে বিসিবির বর্তমান কমিটি ভেঙে দেবে এনএসসি এবং প্রাথমিকভাবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালক পর্ষদ ভেঙে ১৩ থেকে ১৫ জনের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের চিন্তাভাবনা চলছে। তদন্ত কমিটি সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত না করলেও জানা গেছে, তাদের প্রতিবেদনে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের বক্তব্যের ভিত্তিতে যে রিপোর্ট জমা পড়েছে, তাতে বিসিবি নির্বাচনের অস্বচ্ছতা, অনিয়ম এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার অযাচিত হস্তক্ষেপের প্রমাণ মিলেছে। কাজেই রিপোর্টে সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত করা না হলেও অনেক সাক্ষ্য, প্রমাণ এবং যুক্তি-বিবৃতিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা, অনিয়ম এবং সরকারি হস্তক্ষেপের দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তদন্ত কমিটি বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ করেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করার পরামর্শ দিয়েছে। তার মানে পুরো প্রক্রিয়ায় গলদ ছিল এবং তদন্ত কমিটি সেই গলদ খুঁজে পেয়েই তা সংশোধনের প্রস্তাব করেছে। এই যখন অবস্থা, তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না যে বিসিবির পরিচালক পর্ষদ নির্বাচন নিয়ে যে সব অভিযোগ উঠেছিল, তা অমূলক বা মিথ্যা নয়, বরং সত্য। এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গলদ ছিল। একটি গলদে ভরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত কমিটি তাই হয়তো বৈধতা হারাতে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি নির্বাচিত কমিটি হয়েও গত প্রায় ৭ মাসে দেশীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করতে না পারা এবং জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে লিগ চালু না হওয়ার দায়ও বর্তমান বোর্ডের বড় ব্যর্থতা হিসেবে ধরা হচ্ছে। সেটিও এনএসসির গঠনতন্ত্র মোতাবেক বিসিবির বর্তমান কমিটির বৈধতা বাতিলের আরেকটি কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সব মিলিয়ে ধরেই নেওয়া যায়, আইসিসির কাছে বিসিবি ও এনএসসি এসব দালিলিক প্রমাণ পাঠালে এবং আইসিসির পক্ষ থেকে আর কোনো বাধা না থাকলে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভাঙতে আর কোনো আইনি বা আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। তাই ধারণা করা হচ্ছিল ৬ অথবা ৭ এপ্রিলের মধ্যেই বিসিবির কমিটি ভেঙে এনএসসির ২০১৮ সালের সংশোধিত গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ জনের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে; কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এখন প্রশ্ন হলো, সত্যিই যদি বোর্ড ভেঙে যায়, তাহলে কাদের নিয়ে গঠিত হবে বিসিবির নতুন আহ্বায়ক কমিটি? সে কমিটির প্রধান বা আহ্বায়কই বা হবেন কে? বিসিবি নির্বাচনে যে বড় অংশটি নানা বৈরিতা, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সরকারি হস্তক্ষেপে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের উন্মুখ অপেক্ষা- কখন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রজ্ঞাপন জারি হবে, কখন ঘোষণা হবে আহ্বায়ক কমিটির, কারা থাকবেন সেই কমিটিতে, আর আহ্বায়কই বা হবেন কে? যাকে ভাবা হচ্ছে বিসিবির পরবর্তী প্রধান, সেই তামিম ইকবাল কি আহ্বায়ক কমিটিতে থাকবেন? থাকলে কি জাতীয় দলের এই সাবেক অধিনায়কই হবেন আহ্বায়ক? নাকি অন্য কাউকে আহ্বায়ক করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হবে? তা নিয়ে জোর গুঞ্জন, নানা জল্পনা-কল্পনা। ক্রিকেট পাড়ায় আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। একসময় শোনা গিয়েছিল বিসিবির বর্তমান সহসভাপতি ফারুক আহমেদকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠনের কথা, তবে এ খবরের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফারুক আহমেদের আহ্বায়ক হওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম। বরং তামিম ইকবালের আহ্বায়ক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। একটি বড় অংশ মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরে বিসিবি নির্বাচনের বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা তামিম ইকবালের নেতৃত্বেই গঠিত হতে পারে আহ্বায়ক কমিটি। তবে এর পাশাপাশি তামিম ছাড়া অন্য কেউ আহ্বায়ক হতে পারেন- এমন গুঞ্জনও রয়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, যারা গত ৬ মাস ধরে বিসিবি নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে আসছেন এবং এই বোর্ডের অধীনে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে অনীহা প্রকাশ করে কার্যত বোর্ডকে অকার্যকর প্রমাণ করেছেন, সেই তামিম ইকবালও নাকি জানেন না আহ্বায়ক কমিটি কাদের নিয়ে গঠিত হবে কিংবা তিনি নিজে আহ্বায়ক হবেন কি না। তামিম একা নন- নির্বাচনের আগে তার সঙ্গে নির্বাচন বয়কট করা রফিকুল ইসলাম বাবু, ফাহিম সিনহা, সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর, রেদওয়ান বিন ফুয়াদসহ অন্য সংগঠকরাও নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত নন। এক কথায়, আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। খোদ ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হকও এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না। ধারণা করা হচ্ছে আহ্বায়ক কমিটির সম্ভাব্য রূপরেখা। বিশেষ করে আহ্বায়ক পদটি বর্তমান বিএনপি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে চূড়ান্ত হয়ে আসতে পারে। বিসিবির নির্বাচন নিয়ে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, অস্বচ্ছতা ও সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ আছে। তাই আর নতুন করে যাতে কোনো রকম পানি ঘোলা না হয়, নতুন কোনো বিতর্কের অবতারণা যাতে না ঘটে, সে চিন্তায় হয়তো বিএনপি সরকার বাড়তি সচেতনতা অবলম্বন করছে এবং সে কারণেই ধারণা করা হচ্ছে, আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হলে তার সম্ভাব্য আহ্বায়ক মনোনয়নের কাজটি বিএনপি সরকারের হাই কমান্ড থেকেই তৈরি করে দেওয়া হতে পারে। সেখানে ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হকের মতামত অবশ্যই গুরুত্ব পাবে। আমিনুল হকই হয়তো আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের বড় অংশের নাম প্রস্তাব করবেন এবং বিগত দিনে অবমূল্যায়িত ও বঞ্চিত ক্রিকেট সংগঠকদেরই কমিটিতে রাখার প্রস্তাব করবেন। তবে আহ্বায়কটি তার পছন্দে হবে কিনা- সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এদিকে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা কি আদৌ নির্বাচন করতে পারবেন—এমন প্রশ্নও উঠেছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আহ্বায়ক কমিটিতে থেকে নির্বাচন করার অপশন নেই। সেক্ষেত্রে আহ্বায়ক কমিটির যারা বিসিবির পরিচালক পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী, তারা নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করে তারপর নির্বাচন করতে পারবেন। গঠনতন্ত্রে এমন একটি অপশন সম্ভবত আছে। তাই ধরে নেওয়া যায়, আগামীতে যারা আহ্বায়ক কমিটিতে আসতে পারেন, তাদের অনেকেই পরবর্তীতে নির্বাচন করবেন। সেই তালিকায় তামিম ইকবাল, রফিকুল ইসলাম বাবু, ফাহিম সিনহা, সিরাজউদ্দীন আলমগীর ও রেদওয়ান বিন ফুয়াদসহ আরও অনেকেই থাকতে পারেন। এআরবি/আইএইচএস

Go to News Site