Collector
হৃদযন্ত্রে জটিলতা, ৩৪ বছর বয়সেই অবসরে ব্রাজিল তারকা | Collector
হৃদযন্ত্রে জটিলতা, ৩৪ বছর বয়সেই অবসরে ব্রাজিল তারকা
Jagonews24

হৃদযন্ত্রে জটিলতা, ৩৪ বছর বয়সেই অবসরে ব্রাজিল তারকা

অস্কার ডস সান্তোস এমবোয়াবা জুনিয়র- ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার, যিনি ফুটবল বিশ্বে ‘অস্কার’ নামেই বেশি পরিচিত। মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিলেন। হৃদ্‌যন্ত্রে জটিলতার কারণে ক্যারিয়ার থামিয়ে দেওয়ার মত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলো তাকে। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেন এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। ক্লাব ক্যারিয়ারে যিনি চেলসির মত বড় দল এবং চীনের লিগে দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা। অস্কার সর্বশেষ খেলছিলেন সাও পাওলো এফসির হয়ে- যে ক্লাব দিয়েই তার পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু এবং শেষ হরো। তবে গত বছরের নভেম্বর থেকে তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন। ওই সময় অনুশীলনের মাঝে তিনি ‘ভ্যাসোভ্যাগাল সিনকোপ’ (হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া) সমস্যায় আক্রান্ত হন, যা মূলত হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তচাপের জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ঘটনার পর থেকেই তিনি আর কোনো ম্যাচে মাঠে নামেননি। শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েই অবসরের সিদ্ধান্ত নেন এই মিডফিল্ডার। অস্কার তার বিদায়ী বার্তায় জানান, তিনি আরও খেলতে চেয়েছিলেন। বিশেষ করে সাও পাওলোর জন্য নিজের সেরাটা দিতে চেয়েছিলেন; কিন্তু পরিস্থিতি তাকে সে সুযোগ দেয়নি। ‘আমি সাও পাওলোর জন্য আরও কিছু দিতে চেয়েছিলাম, আরও খেলতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয়, আমার বয়স অনুযায়ী এখনও খেলার মতো সামর্থ্য ছিল; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত যা ঘটেছে, তারপর আর সম্ভব হয়নি। এখন আমি অবসর নিচ্ছি। সমর্থক হিসেবে সাও পাওলোকে সমর্থন করে যাব’- বলেন অস্কার। তিনি আরও জানান, ফুটবল ক্যারিয়ার তাকে বিশ্বের নানা প্রান্তে নিয়ে গেছে। সবসময় ভক্তদের ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞ থাকবেন। ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে অস্কারের অবদান বেশ উজ্জ্বল। ক্লাব পর্যায়ে তিনি মোট ৫৫৬টি ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে করেছেন ১৩৬টি গোল এবং দিয়েছেন ২০৩টি অ্যাসিস্ট। তার ক্লাব ক্যারিয়ারে ছিল ইন্টারন্যাসিওনেল, চেলসি, সাংহাই এসআইপিজির মতো দল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৪৮টি ম্যাচ খেলেছেন এবং করেছেন ১২টি গোল। খেলেছেন ২০১৪ বিশ্বকাপে। এছাড়া তিনি লন্ডন-২০১২ অলিম্পিকে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। যদিও অবসরের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ, তার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, যা তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন অত্যন্ত আবেগঘনভাবে। অস্কার জানান, অনুশীলনের সময় হঠাৎ করে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং তার হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রম থমকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। চিকিৎসকরা দ্রুত কার্ডিয়াক ম্যাসাজ দিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনেন। তিনি বলেন, ‘আমি পরীক্ষা দিচ্ছিলাম, তারপর হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাই। রক্তচাপ কমে যাচ্ছিল, হৃদ্‌যন্ত্র যেন থেমে যাচ্ছিল। তারা আমাকে কার্ডিয়াক ম্যাসাজ দেয়। আমি শুধু অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মুহূর্তটাই মনে করতে পারি।’ এই ঘটনার সময় তিনি এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন, ‘মানুষ বলে, মৃত্যুর সময় শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়- আমারও তেমন কিছু লেগেছিল। মনে হচ্ছিল আমি এক স্বপ্নের মধ্যে আছি। খুব দ্রুত সবকিছু হচ্ছিল। আর আমি দেখছিলাম আমার ছেলে বলছে, বাবা, ফিরে আসো,’— যোগ করেন অস্কার। এই হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতাই শেষ পর্যন্ত তাকে বুঝিয়ে দেয় যে জীবনের চেয়ে বড় কিছু নেই। তাই সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই তিনি পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানান। আইএইচএস/

Go to News Site