Somoy TV
দৃষ্টিহীনতা কিংবা বয়স, কোনো কিছুই দমাতে পারেনি তাকে। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দড়ি ও বাঁশ ধরে পথ চিনে মসজিদে গিয়ে আজান দিয়েছেন তিনি। অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার সেই আলোচিত বৃদ্ধ মোয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা (১২০)।রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা যান। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে স্থানীয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি ২ স্ত্রী, ১৯ সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।আব্দুর রহমান মোল্লা প্রায় ২৫ বছর আগে এক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিজের চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। কিন্তু দৃষ্টি হারানোর পরও থেমে থাকেনি তার ধর্মীয় নিষ্ঠা। ২০১১ সালে হজ পালন করে দেশে ফেরার পর নিজ গ্রামে একটি মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছা জাগে তার। সেই অনুযায়ী নিজের ৫ শতাংশ জমি মসজিদের নামে দান করেন এবং বিলের ১০ শতাংশ জমি বিক্রি করে গড়ে তোলেন ‘বড়দেহা দক্ষিণপাড়া ওয়াকতিয়া মসজিদ’।বাড়ি থেকে মসজিদের দূরত্ব ছিল প্রায় ২০০ মিটার। দৃষ্টিহীন আব্দুর রহমানের পক্ষে এই পথ পাড়ি দেওয়া ছিল অসম্ভব। তাই তার সন্তানরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত দড়ি ও বাশ বেঁধে একটি বিশেষ রাস্তা তৈরি করে দেন। গত ১৫ বছর ধরে এই দড়ি ও বাঁশ ধরে টালমাটাল পায়ে হেঁটে মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত আজান দিতেন এবং নিজেই ইমামতি করতেন তিনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই কাজের জন্য তিনি কোনো পারিশ্রমিক নিতেন না।আব্দুর রহমানের ছেলে শফিক আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, বাবা ২০১১ সালে আমার সাথেই হজ করেছিলেন। আসার পর থেকেই তার ধ্যান-জ্ঞান ছিল এই মসজিদ। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই মসজিদে আজান দিয়েছেন। আমরা তাঁর জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।আরও পড়ুন: ঢাবির সাবেক অধ্যাপক ড. মজিব উদ্দিন আহমেদ মারা গেছেনস্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, আব্দুর রহমান মোল্লা ছিলেন এলাকার গর্ব। তার এই অদম্য স্পৃহা তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল শিক্ষা। তার মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রহমানের মোট ২৫ জন ছেলে-মেয়ে ছিল। এর মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন। বর্তমানে ১০ জন মেয়ে ও ৯ জন ছেলে এবং তার দুই স্ত্রী জীবিত আছেন। একজন অদম্য মোয়াজ্জিন হিসেবে তার এই জীবনকাহিনি নাটোরসহ সারা দেশে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
Go to News Site