Jagonews24
ঢাকার কারওরান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী হৃদয় সেখ (৪৮)। তিনি দীর্ঘ দেড়যুগ ধরে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন মৎস্য আড়ত থেকে মাছ কিনে কারওয়ান বাজারে বিক্রি করেন। তার এই মাছ বিক্রির সঙ্গে আরও ৯ জন জড়িত। সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোরে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা কুতুবের চর মৎস্য আড়তে গেলে কথা হয় হৃদয় সেখের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাতে ঢাকার গাজীপুর থেকে রওনা হয়ে ভোর পৌনে ৬টার দিকে আড়তে পৌঁছাই। এরপর ৯ জন আড়ত ঘুরে ২৮০ টাকা কেজি দরে রুই, ২৪০ টাকা দরে মৃগেল, ৩৪০ টাকা দরে কাতলা, ২২০ টাকা দরে কারপিও, ৩১০ টাকা দরে গ্রাসকার্প ও ১৬০ টাকা দরে পাঙাশ প্রজাতির ৭৫ মণ মাছ কিনেছি। এসব মাছ ঢাকার কারওরান বাজারে বিক্রি হবে।’ এসব মাছ ঢাকায় নিয়ে কত টাকা কেজিতে বিক্রি করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রুই ৩৮০, মৃগেল ৩৫০, কাতলা ৪৪০, কারপিও ৩২০, গ্রাসকার্প ৪৫০ ও পাঙাশ ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করবো।’ মাছ ব্যবসার পরিশ্রম ও কষ্টের কথা তুলে ধরে হৃদয় সেখ আরও বলেন, ‘এই আড়ত থেকে মাছ কিনে কারওরান বাজারে পৌঁছাতে আগে ট্রাকভাড়া লাগতো ১২-১৪ হাজার টাকা। এখন জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে তার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮-২০ হাজার টাকায়। শুধু তাই না, সড়কের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাও দিতে হয়।’ আরও পড়ুন: পাম্পে মাঝরাত থেকে অপেক্ষা, দুপুরেও তেলের দেখা নেইতেলের সংকটে ইলিশ আহরণে ভাটা, ক্ষতির মুখে জেলেরাতেল সংকটে কঠিন হচ্ছে চরাঞ্চলের জীবন-জীবিকাদোকানপাট, শপিংমল খোলা থাকবে ৭টা পর্যন্ত আরেক মাছ ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সংকটে সড়কে পরিবহন কম থাকায় পণ্যবাহী সব পরিবহনেই ভাড়া কিছুটা বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে এক দুই হাজার টাকা বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু প্রতি গাড়িতে ছয় হাজার টাকা বাড়ানো অস্বাভাবিক। মূলত এই কারণেই মাছের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে।’ বাদল মৎস্য আড়তের আড়তদার লংকের স্বর জাগো নিউজকে বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকার ট্রাকভাড়া আগে ছিল ১৩ হাজার টাকা। এখন নাকি ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। আড়ত থেকে প্রতিকেজি মাছ ঢাকার বাজারে পৌঁছাতে ১০-১৫ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এ কারণে ঢাকার বাজারে মাছের দাম তারা বাড়িয়ে বিক্রি করেন।’ আড়ত থেকে মাছবোঝাই করে ঢাকার পথে রওনা দেন ট্রাকচালক জাহাঙ্গীর আলম। এজন্য ভাড়া নিচ্ছেন ১৯ হাজার টাকা। ভাড়া বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এর চেয়ে কম ভাড়া নিলে পোষায় না। তেল নিতে যে ভোগান্তি পোহাতে হয়, বিলম্ব হয়; আমিতো মনে করি ভাড়া ২৫ হাজার টাকা নেওয়া উচিত।’ কথা হয় আড়তের সভাপতি ফজলার রহমান মোল্লার সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আড়তে প্রতিদিন ভোর ৬টা ও সকাল ৯ টায় মাছ বেচাকেনা হয়। এই দুই ধাপে ১৫০০-১৭০০ মেট্রিক টন মাছ বিক্রি হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা। তবে জ্বালানি তেলের সংকট তাদের কিছুটা দুশ্চিন্তায় ফেলেছে বলে জানান। এসআর/এমএস
Go to News Site