Collector
২৬ গজ দূর থেকে কাগলিয়ারেলার চোখধাঁধানো গোল | Collector
২৬ গজ দূর থেকে কাগলিয়ারেলার চোখধাঁধানো গোল
Jagonews24

২৬ গজ দূর থেকে কাগলিয়ারেলার চোখধাঁধানো গোল

২০১০ বিশ্বকাপের স্মরণীয় এক মুহূর্ত- যেখানে বিদায়ের বেদনার মাঝেও জন্ম নিয়েছিল এক অসাধারণ গোল। ইতালির স্ট্রাইকার ফাবিও কাগলিয়ারেলার সেই জাদুকরি চিপ আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে অমলিন হয়ে আছে। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে জোহানেসবার্গের এলিস পার্ক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল স্লোভাকিয়া ও ইতালি। ম্যাচটি ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইতালির জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। গ্রুপপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে প্যারাগুয়ে ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করায় নকআউটে উঠতে হলে স্লোভাকিয়াকে হারানো ছাড়া বিকল্প ছিল না আজ্জুরিদের সামনে। কিন্তু ম্যাচের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্লোভাকিয়ার আক্রমণভাগের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে ইতালির রক্ষণ। একপর্যায়ে তারা ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে, যখন ম্যাচ প্রায় শেষের পথে, যোগ করা সময় শুরু হয়ে গেছে। সময় তখন ইতালির বিপক্ষে, বিদায় প্রায় নিশ্চিত। তবুও হাল ছাড়েননি ড্যানিয়েলে ডি রোসি। মাঝমাঠে লড়াই করে তিনি বল দখল করে তা এগিয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা ফাবিও কাগলিয়ারেলার দিকে। তখন স্লোভাকিয়ার গোলরক্ষক ইয়ান মুচা নিজের লাইন থেকে কিছুটা এগিয়ে ছিলেন- প্রায় তিন গজ দূরে। সেই সুযোগটিই কাজে লাগান কাগলিয়ারেলা। প্রায় ২৬ গজ দূর থেকে তিনি যে শটটি নেন, তা ছিল নিখুঁত এক লো-ফ্লাইটেড চিপ- বলটি গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে ভেসে গিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় স্টেডিয়াম, আর জন্ম নেয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সুন্দর এক গোল। গোলটি ছিল নিঃসন্দেহে অসাধারণ; কিন্তু তা ইতালিকে রক্ষা করতে পারেনি। ম্যাচটি তারা শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যায় ৩-২ গোলে এবং গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয় শিরোপাধারীরা। ২০০৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এটি ছিল এক হতাশাজনক সমাপ্তি। তবুও কাগলিয়ারেলার সেই গোল ফুটবল ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতে, চাপে থেকেও এমন নিখুঁত কারিগরি দক্ষতা এবং সাহসিকতা দেখানো খুব কম খেলোয়াড়ের পক্ষেই সম্ভব। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক গোল এসেছে, কিন্তু কোয়ালিয়ারেলার সেই চিপ আজও ‘ওয়ান্ডার গোল’ হিসেবে বিশেষভাবে স্মরণীয়- একটি গোল, যা হার মানেনি সময়ের কাছে। আইএইচএস/

Go to News Site