Collector
পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, চোখের সামনেই মরল ৩০০ হাঁস | Collector
পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, চোখের সামনেই মরল ৩০০ হাঁস
Somoy TV

পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, চোখের সামনেই মরল ৩০০ হাঁস

পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে এক খামারির প্রায় ৩০০ হাঁস নিধনের অভিযোগ উঠেছে। চোখের সামনে সন্তানের মতো লালন-পালন করা হাঁসগুলো মারা যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বয়োবৃদ্ধ এক খামারি ও তার স্ত্রী। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর নতুনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (৬ এপ্রিল) ক্ষতিগ্রস্ত খামারি শামসু মোল্লা (৭৩) এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শামসু মোল্লা জানান, উজানচর নতুনপাড়া এলাকায় চার মাস আগে হাঁসের খামার শুরু করেছিলেন তিনি। খালাতো ভাই সোহেলের পুকুরে প্রায় ৭০০ বাচ্চা ও ৪০০ বড় হাঁস লালন-পালন করছিলেন। একই এলাকায় পাশের একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন ঠান্ডু নামে এক ব্যক্তি। গত ৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে ঠান্ডু নিজের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ তুলে নেন। তবে বিষয়টি আগে থেকে শামসু মোল্লাকে জানানো হয়নি। পরদিন সকালে বিষাক্ত পানিতে গিয়ে খাবার খায় তার হাঁসগুলো। এরপর দুপুর থেকেই একে একে অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে সেগুলো এবং সন্ধ্যার আগেই মারা যায় প্রায় ৩০০ হাঁস। চোখের সামনে সন্তানের মতো লালন করা হাঁসগুলো হারিয়ে শোকাহত শামসু মোল্লা ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম। কোনোভাবেই থামছে না তাদের কান্না আর আহাজারি। আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে রিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধার শামসু মোল্লা বলেন, ‘আমার বয়স ৭৩ বছর। এই বয়সেও আমি ভিক্ষা করি না কিংবা কারও কাছে হাত পেতে খাই না। হাঁসের খামারের মধ্য দিয়ে কর্ম করে খাই। আমার সন্তানের মতো হাঁসগুলো লালন-পালন করি। ঠান্ডু ও তার ম্যানেজার ছাত্তার আমার সন্তান মেরে ফেলেছে, আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।’ আক্ষেপ করে বয়োবৃদ্ধ এই খামারি বলেন, ‘সবেমাত্র হাঁসগুলো ডিম দেয়া শুরু করেছে। তারা আমার সাত লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। এর চেয়ে আমাকে মেরে ফেললে ভালো হতো।’ শামসু মোল্লার স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন, ‘ঠান্ডু যদি আমাদের বলত যে তারা পুকুরে বিষ দিয়েছে, তাহলে আমরা আমাদের হাঁস খামারে আটকে রাখতাম। ওরা জেনেবুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের হাঁস হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’ এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ঠান্ডুর বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত খামারি যাতে ন্যায়বিচার পান এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Go to News Site