Somoy TV
‘মামুনের স্বপ্ন ছিল-ঈদের পর বাড়িতে এসে নতুন ঘর তুলবে। এখন সেই স্বপ্ন শুধু স্মৃতি। সরকার যদি আমাকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে ছেলেটার ভবিষ্যৎটা গড়তে পারতাম।’এই কথা বলতে বলতে বারবার ভেঙে পড়ছিলেন সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি আবদুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম শারমিন। স্বামী হারানোর শোক আর একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা-দুই মিলিয়ে তার চোখে এখন শুধু অন্ধকার। সোমবার (৬ এপ্রিল) বাদ আসর ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের নিজ বাড়িতে মামুনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর ঢল নামে। স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা সাদিয়া বলেন, আমি স্বামী হারিয়েছি, বিধবা হয়েছি। আমার সন্তান এতিম হয়ে গেছে। এখন কীভাবে তাকে মানুষ করব? এই পরিবারের দায়িত্ব এখন আমার কাঁধে। সরকার যদি আমাকে একটি চাকরি দেয়, তাহলে আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে। আরও পড়ুন: সেই স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত সৌদি প্রবাসী মামুনের পরিবারের এই দুঃসময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনম আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, চাকরি দেয়ার বিষয়টি একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়। তবে আমরা বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবো। তার যোগ্যতা অনুযায়ী যাতে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়, তার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন এবং নিহতের বাবা শহিদুল ইসলামের কাছে তা হস্তান্তর করেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিবারকে অনুদান ও দাফনের জন্য ৮৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর ১টার দিকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পৌঁছে যায়। গত ৮ মার্চ ইফতারের আগ মুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন আবদুল্লাহ আল মামুন। পরে তিনি ডা. সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত ১৭ মার্চ রাতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান।
Go to News Site