Collector
গরমে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা, জ্বালানি সংকট বড় বাধা! | Collector
গরমে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা, জ্বালানি সংকট বড় বাধা!
Somoy TV

গরমে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা, জ্বালানি সংকট বড় বাধা!

চলতি বছরও গরমে ভোগাতে পারে লোডশেডিং। কারণ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন সক্ষমতা বেশি থাকলেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাব। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ খাতের বড় অংকের বকেয়া। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে গরমে দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের শঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি অনেকটাই আবহাওয়ানির্ভর। তাপমাত্রা কম থাকলে স্বস্তি থাকলেও, গরম বাড়লেই শুরু হয় লোডশেডিং। একদিকে গ্রাহকের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রত্যাশা, অন্যদিকে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনে জ্বালানির ঘাটতি-এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি গরমে চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াতে পারে। যদিও দেশে ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে, তবে পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবই মূল সমস্যা। এর সঙ্গে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতি নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এরই মধ্যে গত শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো এক হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, গ্রিড ঠিক রাখতে অনেকগুলো বিষয় কাজ করে। লোডশেডিং তিন-চার হাজার মেগাওয়াটেও যেতে পারে। গরম কতটা পড়বে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। গরম কম হলে দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট, আর বেশি হলে চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হতে পারে। আরও পড়ুন: তীব্র হচ্ছে জ্বালানি সংকট, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎখাত বিদ্যুৎ খাতের আরেক বড় সমস্যা বকেয়া বিল। বর্তমানে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা ১১ হাজার কোটি টাকা এবং বেসরকারি তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি কে এম রেজাউল হাসনাত বলেন, গত সাত মাসে যে তেল আমদানি করে ব্যবহার করা হয়েছে, সেই বিল এখনও পরিশোধ হয়নি। সরকার যদি দ্রুত এই বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা না করে, তাহলে নতুন করে এলসি খোলা সম্ভব হবে না। দ্রুত পেমেন্ট না পেলে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে সরকার। এত বড় অঙ্কের দায় থাকলেও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারব না। এমন একটি সমাধান খোঁজা হচ্ছে, যাতে জনগণ এবং উৎপাদনকারী-দুই পক্ষই উপকৃত হয়। চলমান এই পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকরা গ্রাহকদেরও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

Go to News Site