Somoy TV
ইরানে সম্প্রতি একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, এই ঘটনার ফলে দুই পাইলটকে উদ্ধারে নাটকীয় অভিযান পরিচালনা করতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে, যা চলমান সংঘাতের জটিলতা এবং তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও বিদ্যমান ঝুঁকির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।ট্রাম্প ও তার শীর্ষ কর্মকর্তাদের দাবি, ছয় সপ্তাহের সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক বাহিনী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, লঞ্চার ও ড্রোন কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সোমবার (৬ এপ্রিল) জানায়, তারা এখন পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ১৫০টিরও বেশি ইরানি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে। তবে প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেয়ার দাবির পরও একটি দীর্ঘস্থায়ী হুমকি সামনে আসছে, কারণ ট্রাম্প ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এই হুমকিকে বলা হয় ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ যুদ্ধ’, যেখানে ব্যক্তি বা ‘ছোট ছোট জঙ্গি গোষ্ঠীও’ মার্কিন বাহিনীর জন্য কৌশলগত হুমকি তৈরি করতে পারে। সোমবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে ইরানের প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হরমুজ প্রণালী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো সেই বাস্তবতা স্বীকার করেন। আরও পড়ুন: পাইলট উদ্ধার অভিযানকালে মার্কিন হামলায় চার ইরানি সেনা কর্মকর্তা নিহত তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের হতচকিত করে দিতে পারি, কিন্তু প্রণালীটি বন্ধ করতে মাত্র একজন সন্ত্রাসীই যথেষ্ট।’ হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দুই পাইলটকে উদ্ধারের ঘটনাকে প্রায় হলিউড ধাঁচের নাটকীয় বর্ণনায় তুলে ধরেন। দুর্ঘটনার পর পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা হলেও দ্বিতীয় বিমানচালক পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন, যার অবস্থান শনাক্ত করে সিআইএ। ট্রাম্প বলেন, ‘ওই বিমানচালক রক্তাক্ত অবস্থায় খাড়া পাহাড় বেয়ে ওঠেন, নিজেই নিজের ক্ষত চিকিৎসা করেন এবং নিজের অবস্থান জানাতে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’ ট্রাম্প ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতে, প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই বিমানচালক একটি সংকেত পাঠানোর যন্ত্র সক্রিয় করলে তার অবস্থান শনাক্ত হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ২০টিরও বেশি সামরিক বিমান ইরানে পাঠিয়ে একটি সাহসী উদ্ধার অভিযান চালায়। তাদের ভাষ্য, এটি ছিল সময়ের বিরুদ্ধে এক প্রতিযোগিতা, কারণ ইরান সরকারও ওই বিমানচালককে খুঁজে বের করতে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে। সূত্র: এনবিসি নিউজ
Go to News Site