Somoy TV
এক ফোঁটা সুপার গ্লু কেড়ে নিয়েছে সাত বছরের এক অবুঝ শিশুর চোখের আলো। যে বয়সে তার পড়াশোনা আর খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে সে এখন এক চোখে অন্ধকার দেখছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী মা-বাবার সংসারে চরম দারিদ্র্যের কারণে উন্নত চিকিৎসাও মিলছে না ছোট্ট আরিফার।মাদারীপুর সদর উপজেলার কালাইমারা গ্রামের শাহাদাৎ কাজি ও হনুফা বেগম দম্পতির মেয়ে আরিফা। জানা যায়, বাড়ির উঠানে কুড়িয়ে পাওয়া সুপার গ্লুর প্যাকেটকে খেলনা ভেবে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত চোখের ভেতর আঠা দিয়ে ফেলে সে। এতে প্রায় ৬ মাস আগে তার বাম চোখের আলো নিভে যায়। এক চোখ দিয়ে সে এখন আর পৃথিবীর আলো দেখতে পায় না। চোখের যন্ত্রণায় দিন পার করছে অবুঝ এই শিশু। আরিফার মা-বাবা দুজনেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। চরম অভাব ও অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটছে তাদের। ফলে পরিবারের পক্ষে মেয়ের উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। মানুষের সহযোগিতায় কোনোমতে তাদের সংসার চলছে। প্রাথমিকভাবে এলাকাবাসী চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করলেও বর্তমানে সেটিও বন্ধ রয়েছে। তাই সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আরিফার মা হনুফা বেগম বলেন, ‘মেয়েটির চোখ এভাবে নষ্ট হয়ে যাবে তা বুঝতে পারিনি। উন্নত চিকিৎসা করানো গেলে হয়তো আরিফা আবারও স্বাভাবিকভাবে দুচোখে দেখতে পেত। তাই সরকার থেকে এই সুযোগটুকু আমরা পেতে চাই।’ আরও পড়ুন: মাদারীপুরে লিফটে আটকে থাকা শিশুসহ ৮ জনকে দেড়ঘণ্টা পর উদ্ধার শিশুটির ফুফা জালাল মিয়া বলেন, ‘আমরা এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে মেয়েটির চিকিৎসা করালেও এখন আর পারছি না। ওর পরিবারও তেমন সচ্ছল নয়। তাই বড় ধরনের আর্থিক সহযোগিতা ছাড়া আরিফার উন্নত চিকিৎসা সম্ভব নয়।’ এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, ‘অসাবধানতাবশত মেয়েটির এক চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারিভাবে পরিবারটির পাশে থাকবে উপজেলা প্রশাসন।’ মাদারীপুর জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ বৈদ্য নাদিম বলেন, ‘শিশুর চোখ বিকল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিগগিরই খোঁজখবর নিয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে। মা-বাবা প্রতিবন্ধী হওয়ায় তারা যদি সরকারি সুযোগ-সুবিধা না পায়, তাহলে তাদেরও সরকারি ভাতার আওতায় আনা হবে।’
Go to News Site