Somoy TV
দেশে যখন জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে হাহাকার চলছে, ঠিক তখনই কোনো ধরনের তেল বা বাইরের বিদ্যুৎ (চার্জ) ছাড়াই প্রাইভেটকার ও ১২ আসনবিশিষ্ট ইজিবাইক তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সাতক্ষীরার এক ব্যক্তি। উদ্ভাবিত এই গাড়িগুলো রাস্তায় চললেই ডায়নামো বা ম্যাগনেটের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ তৈরি হয়ে ব্যাটারি চার্জ হতে থাকে। পরিবেশবান্ধব এই উদ্ভাবন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।চাঞ্চল্যকর এই উদ্ভাবনটি করেছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের থানাঘাটা গ্রামের শেখ ফারুক হোসেন। সম্প্রতি তার তৈরি জ্বালানি ও বিদ্যুৎবিহীন এই প্রাইভেটকার এবং ‘টাইগার বাইক’ নামের ইজিবাইকটি মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। জানা যায়, ফারুক হোসেনের তৈরি চার চাকা বিশিষ্ট গাড়িগুলোতে কোনো জ্বালানি বা বাইরে থেকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করার প্রয়োজন হয় না। গাড়িগুলো যতই চলবে, ততই এর ভেতরে থাকা ডায়নামো বা ম্যাগনেট দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ তৈরি হবে এবং সেই বিদ্যুতে ব্যাটারি চার্জ হবে। আর তা দিয়েই অনায়াসে চলতে থাকবে গাড়ি। ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম এই গাড়িতে কোনো প্রকার দূষণের আশঙ্কা নেই, তাই এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। আরও পড়ুন: যুবকের ‘কারিশমায়’ সাইকেল হয়ে গেল মোটরসাইকেল! উদ্ভাবক শেখ ফারুক হোসেন জানান, প্রথমে ১২ আসনবিশিষ্ট ইজিবাইক বা ‘টাইগার বাইক’ তৈরি করেছিলেন তিনি। পরে একই পদ্ধতিতে তেল ছাড়া চলার উপযোগী প্রাইভেটকারও নির্মাণ করেন। একটি গাড়ি তৈরি করতে তার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে এবং সময় লেগেছে ২ মাস। তবে এখন আরও কম সময়ে তিনি এ ধরনের বাইক বা প্রাইভেটকার তৈরি করতে পারবেন বলে জানান। সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে গাড়িটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই উদ্ভাবক। জ্বালানি বা বিদ্যুতের প্রয়োজন না হওয়ায় অত্যন্ত আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব এই গাড়িটির চাহিদা ভবিষ্যতে ব্যাপকহারে বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফারুকের এই আবিষ্কারে গর্বিত এলাকাবাসীও। গাড়িটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং লাবসা ইউপি সদস্য মো. নজিবুর রহমান টুটুল।
Go to News Site