Collector
উদ্বোধনের অপেক্ষায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত আশুগঞ্জ মৈত্রীস্তম্ভ | Collector
উদ্বোধনের অপেক্ষায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত আশুগঞ্জ মৈত্রীস্তম্ভ
Somoy TV

উদ্বোধনের অপেক্ষায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত আশুগঞ্জ মৈত্রীস্তম্ভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্মারক হিসেবে নির্মিত ‘ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীস্তম্ভ’ ও পার্কের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আগামী এপ্রিলেই দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনাটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পরিকল্পনা করছে স্থানীয় প্রশাসন।ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে আশুগঞ্জের কামাউড়া এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন একর জমির ওপর ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মৈত্রীস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে এর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখন চলছে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতি। মেসার্স নির্মাণ বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেছে। মুক্তিযুদ্ধে আশুগঞ্জের ইতিহাস  ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পূর্বাঞ্চলের আখাউড়া এবং ৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর হানাদারমুক্ত হয়। এরপর মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা যৌথভাবে আশুগঞ্জের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। তবে ভুল তথ্যের কারণে ৯ ডিসেম্বর রাতে আশুগঞ্জের সোহাগপুর ও কামাউড়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর কর্মকর্তাসহ বিপুলসংখ্যক সদস্য এবং অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা প্রাণ হারান। মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের এই আত্মত্যাগের স্মরণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আশুগঞ্জে এই মৈত্রীস্তম্ভটি নির্মাণ করে। আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাওয়া মর্টারশেলটি করা হলো নিস্ক্রিয় কী আছে মৈত্রীস্তম্ভে  মৈত্রীস্তম্ভের সীমানায় রয়েছে ১০ মিলিমিটার গ্লাসের দৃষ্টিনন্দন বেষ্টনী। ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে ১৯৭১-এর অগ্নিঝরা দিনগুলোর নানা ভাস্কর্য ও দেয়ালচিত্র। এর মধ্যে রয়েছে নারী-পুরুষের দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেয়ার দৃশ্য, রণাঙ্গনের সম্মুখযুদ্ধ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্য। এছাড়া ‘এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের পাশাপাশি কবি সিকান্দার আবু জাফরের ‘তুমি আমার বাতাস থেকে মোছো তোমার ধুলো’ কবিতার লাইনও দেয়ালে স্থান পেয়েছে। দেয়ালের এই চিত্রকর্মগুলো যেন একখণ্ড মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। স্মৃতিস্তম্ভটিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৭৯ জন অফিসার, ৭০ জন জেসিও, অন্যান্য পদের ১৪৮২ জন সদস্য, বিএসএফের ২৯ জন, বিমানবাহিনীর ১১ জন এবং নৌবাহিনীর ৬ জনসহ অসংখ্য মুক্তিকামী জনতার নাম লোহার ভারী শিটে খোদাই করে লেখা রয়েছে। আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১১ রণাঙ্গনের স্মৃতিচারণ  আশুগঞ্জের যুদ্ধ নিয়ে যুদ্ধকালীন কমান্ডার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর ভোররাতে আমরা পাকিস্তানি বাহিনীর অ্যামবুশে (ফাঁদে) পড়ে যাই। সোহাগপুর, বাহাদুরপুর ও দুর্গাপুর মিলিয়ে হওয়া ওই যুদ্ধে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই মৈত্রীস্তম্ভের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। এজন্য বাংলাদেশ ও ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক হাজী সৈয়দ এমরানুর রেজা বলেন, ‘মৈত্রীস্তম্ভটিতে বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস থেকে শুরু করে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করলে নতুন প্রজন্ম অনেক কিছুই জানতে পারবে।’ ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আশুগঞ্জের যুদ্ধ ভোলার নয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত আমাদের যে উপকার করেছে, তাদের জনগণের সেই অবদান ভুলবার নয়। তারা আমাদের ১ কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে, খাইয়েছে। তবে আমরা একটি স্বাধীন দেশ, ভারতের সাথে আমাদের বন্ধুপ্রতিম সম্পর্ক রয়েছে।’ আরও পড়ুন: চুরির আগে পুলিশের অনুমতি নিয়ে যেতেন চোর আলাল মিয়া! কবে হবে উদ্বোধন  আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া জানান, গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গত নভেম্বরে মৈত্রীস্তম্ভটি বুঝে পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা মৈত্রীস্তম্ভটি বেসরকারি খাতে ইজারা দেয়ার যাবতীয় কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আশা করছি চলতি এপ্রিল মাসের মধ্যেই এটি ইজারা দেয়া সম্ভব হবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এটি উদ্বোধন করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।’

Go to News Site