Somoy TV
সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ সালেহ আল-ফাওজান ইন্টারনেট থেকে তার সব কর্মকাণ্ড ও উপস্থিতি সরিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে তার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, প্রায় ১০ লাখ ফলোয়ারবিশিষ্ট টুইটার (এক্স) অ্যাকাউন্ট এবং ১০ লক্ষাধিক সাবস্ক্রাইবারসম্পন্ন ইউটিউব চ্যানেল।দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত তার কয়েক হাজার ফতোয়া, দরস (পাঠদান), জুমার খুতবা এবং লেকচারের এক বিশাল আর্কাইভ এখন আর অনলাইনে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ১৯৩৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের আল-কাসিম প্রদেশে জন্ম নেয়া ড. আল ফাওজান তার বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় একজন ইমামের কাছে কুরআন অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘদিন রেডিওতে ‘নূর আলা আল-দারব’ অনুষ্ঠান এবং টেলিভিশনে নিয়মিত উপস্থিতির মাধ্যমে একজন পণ্ডিত হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তার ধর্মীয় আদেশ বা ফতোয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ইসলামি ফিকহ, আকিদাহ ও শরিয়াহ আইন বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন ড. আল-ফাওজান। আরবি ভাষায় রচিত এসব গ্রন্থ বিশ্বব্যাপী ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তার দাওয়াতি কাজ, সুদৃঢ় শরিয়াহভিত্তিক চিন্তাধারা এবং ইসলামি সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তাকে শুধু সৌদি আরবেই নয়, গোটা মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। ধর্ম বিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. আল-ফাওজানের নেতৃত্বে সৌদি আরবের ধর্মীয় গবেষণা, ফিকহ ও ফতওয়া কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও প্রভাবশালী হবে। শায়খ ফাওজানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (alfawzan. af. org. sa) এখন আর সচল নেই। এ ছাড়া তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোও চিরতরে মুছে ফেলা হয়েছে। এর ফলে মুসলিম উম্মাহর জন্য উন্মুক্ত থাকা এক বিশাল ইলমি ভান্ডার অনলাইন থেকে হারিয়ে গেলো। ডিলিট হওয়া কনটেন্টগুলোর একটি তালিকা নিচে দেয়া হলো: ১১ হাজার ৭৮৩টি ফতোয়া, ১ হাজার ৯৪৪টি দরস (শিক্ষামূলক পাঠ), ১শ ৮৪টি জুমার খুতবা, ৫শ ৭৮টি বিশেষ লেকচার। দশকব্যাপী সংগৃহীত এই ধর্মীয় দিকনির্দেশনা ও ফতোয়াগুলো ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করত, যা এখন আর ইন্টারনেটে সহজলভ্য নয়। আরও পড়ুন: হজ যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণে নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, এই অ্যাকাউন্টগুলো হয়তো ভক্তদের দ্বারা পরিচালিত ছিল। তবে ইতোপূর্বে তার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, শায়খ সালেহ আল-ফাওজান নিজেই এই অ্যাকাউন্টগুলোকে তার দাফতরিক মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। বর্তমানে যার একটিও অনলাইনে সক্রিয় নেই। কেন বা কী কারণে হঠাৎ করে সমস্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে এই কনটেন্টগুলো সরিয়ে নেয়া হলো, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। শায়খ আল-ফাওজান নিজেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি দেননি। সব কটি প্ল্যাটফর্ম থেকে একই সঙ্গে তথ্যগুলো মুছে ফেলার বিষয়টি অনুসারীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন।
Go to News Site